প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দুর্নীতি দমন শাখা যে কাউকেই রেয়াত করবে না, তা স্পষ্ট। তৃণমূলের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবনে পুলিশের মাঝরাতের তল্লাশির পর তিন দিন কেটে গেলেও এখনও অধরা তাঁর আপ্তসহায়ক (PA) সুমিত রায়। কোটি কোটি টাকার সরকারি জমি কেলেঙ্কারির মামলায় অভিযুক্ত সুমিত যাতে কোনোভাবেই দেশ ছেড়ে পালাতে না পারেন, তার জন্য এবার বিমানবন্দর ও সীমান্তগুলোতে জারি করা হলো ‘লুক আউট সার্কুলার’।
পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনি এলাকায় ভুয়ো দলিল আর জাল সরকারি স্ট্যাম্প ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার খাস জমি আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে। তদন্তকারীদের দাবি, মেদিনীপুরের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সুজয় হাজরার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে দুর্নীতির বিপুল অঙ্কের টাকা সরাসরি সুমিত রায়ের অ্যাকাউন্টে স্থানান্তরিত হয়েছে। তদন্তে সহযোগিতা না করায় জেলা আদালত আগেই সুমিতের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিল। গ্রেফতারি এড়াতে ইতিমধ্যেই কলকাতা হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে আসরে নেমেছে রাজ্যের নতুন শাসক দল বিজেপি। বিজেপি শিবিরের তীব্র কটাক্ষ, “পিসি-ভাইপোর প্রশ্রয় ছাড়া একজন সামান্য পিএ-র এত বড় সাহস হয় না। ক্ষমতার দম্ভ চলে যেতেই এখন আইনের জালে একে একে ধরা পড়ছে দুর্নীতির চাঁইরা। সুমিত রায় গ্রেফতার হলেই এই সিন্ডিকেটের পেছনে ওপর মহলের কার কার হাত রয়েছে, তা প্রকাশ পেয়ে যাবে। সেই ভয়েই এখন তৃণমূলের অন্দরমহলে কম্পন শুরু হয়েছে।”
