প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে বঙ্গ রাজনীতিতে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে-র আকস্মিক মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর, সেখানে কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন জানানোর ঘোষণা করেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে তৃণমূলের এই চালকে ‘সমর্থনের নাটক’ আখ্যা দিয়ে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন প্রদেশ কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তৃণমূলকে ‘ঝরা পাতা’ এবং কংগ্রেসকে ‘মহীরুহ বা বটগাছ’ বলে অভিহিত করে তিনি মমতার এই পদক্ষেপের আসল উদ্দেশ্য ফাঁস করেছেন।
তৃণমূলের কংগ্রেসকে সমর্থনের সিদ্ধান্তের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অধীর চৌধুরী তাঁর চেনা আগ্রাসী মেজাজে তোপ দাগেন। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যাকে নিয়ে নন্দীগ্রামের ময়দানে খেলতে নেমেছিলেন, সেই খেলোয়াড় তো খেলা শুরু হওয়ার আগেই মাঠ থেকে চাল কেটে পালিয়ে গিয়েছে! তৃণমূলের এখন আর কোনো প্রার্থীই নেই সেখানে।” তিনি আরও যোগ করেন, এই সমর্থন কোনো রাজনৈতিক আদর্শের কারণে নয়, বরং নন্দীগ্রামে নিজের নিশ্চিত পরাজয় রুখতে এবং মুখরক্ষার এক মরিয়া চেষ্টা।
দলবদলু কর্মী ও সাধারণ ভোটারদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়ে অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেন, “তৃণমূল আসলে একটা ঝরা পাতা, আর কংগ্রেস হলো একটি বিশাল বটগাছ! যারা এতকাল দলবদল করে এদিক-ওদিক ঘুরেছেন, তাদের বলব—ঝরা পাতায় পা দিয়ে লাভ নেই, আসল বটগাছের ছায়ায় আসুন এবং ‘হাত’ প্রতীককে শক্তিশালী করুন।” তিনি দাবি করেন, রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে দেশজুড়ে বিজেপির বিরুদ্ধে একমাত্র কংগ্রেসই মেরুদণ্ড সোজা করে সত্যিকারের লড়াই লড়ছে।
সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ হওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির যোগসাজশকে তীব্র কটাক্ষ করেন অধীর। তিনি বলেন, “নির্বাচনের আগেই নির্বাচনী সার্কাস শুরু হয়ে গেছে। নির্বাচন কমিশন বিজেপির গোলামের মতো কাজ করছে।” নন্দীগ্রামের পাশাপাশি রেজিনগর উপনির্বাচনেও মমতার প্রার্থীদের একই পরিণতি হবে বলে তিনি উপহাস করেন। সব মিলিয়ে মমতার সমর্থনকে মোটেই ভালো চোখে দেখছে না বিধান ভবনের একাংশ। অধীরের এই বিস্ফোরক বিবৃতির পর নন্দীগ্রামের ভোট যুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার।
