প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-প্রথম নোটিশ এড়ালেও চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের কড়া অবস্থানের পর অবশেষে শ্রীরামপুর থানায় হাজিরা দিলেন আরামবাগের প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ অপরূপা পোদ্দার। শুক্রবার বেলা পৌনে ১২টা নাগাদ তিনি থানায় প্রবেশ করেন। তবে এদিন তাঁর হাজিরায় ছিল এক ভিন্ন ছবি। পেশায় আইনজীবী অপরূপা এদিন কোনো রাজনৈতিক নেত্রীর পোশাকে নয়, বরং পরনে কালো কোট ও আইনজীবীর আপাদমস্তক পোশাক পরেই শ্রীরামপুর থানায় তদন্তকারীদের মুখোমুখি হন।
থানা সূত্রের খবর, ঢোকার পর থেকেই তাঁকে তীব্র জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হয়। প্রায় দীর্ঘ ৪ ঘণ্টা ধরে তদন্তকারী আধিকারিকরা তাঁকে দফায় দফায় জেরা করেন। তবে নাটকীয় মোড় নেয় বিকেল ৪টের পর। ম্যারাথন জেরা শেষে থানা থেকে বেরোনোর পরেই তীব্র গরমে আচমকা অসুস্থ বোধ করেন প্রাক্তন সাংসদ। গাড়িতে ওঠার আগেই মাথা ঘুরে তিনি রাস্তার ওপর লুটিয়ে পড়েন। এই ঘটনায় থানা চত্বরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়। সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ ও তাঁর আইনজীবীরা তাঁকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান।
প্রসঙ্গত, গত ৩০ জুন রামনবমী হিংসা মামলায় অপরূপা পোদ্দারের স্বামী তথা রিষড়ার তৃণমূল কাউন্সিলর শাকির আলিকে গ্রেফতার করে এনআইএ (NIA)। সেই সময় কেন্দ্রীয় এজেন্সির কাজে বাধা দেওয়া এবং কর্তব্যরত পুলিশকর্মীদের হেনস্থা ও ধস্তাধস্তির অভিযোগে অপরূপার বিরুদ্ধে শ্রীরামপুর থানায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের হয়েছিল। প্রথমবার বুধবার হাজিরার নোটিশ দেওয়া হলেও আদালতের কাজের কারণ দেখিয়ে তিনি আসেননি। এরপরই পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার জামিন অযোগ্য ধারা যুক্ত করে দ্বিতীয়বার নোটিশ পাঠায়, যার জেরে আজ তিনি হাজিরা দিতে বাধ্য হন।
এদিন সকাল থেকেই অপরূপা পোদ্দারের হাজিরাকে কেন্দ্র করে শ্রীরামপুর থানা চত্বরে কড়া নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছিল। মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিশবাহিনী ও মহিলা সিআরপিএফ জওয়ান। অন্যদিকে, এই ঘটনার মাঝেই স্বস্তি মিলেছে পোদ্দার পরিবারে। এনআইএ-এর হাতে গ্রেফতার হওয়া অপরূপার স্বামী শাকির আলি আজই আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন।
