প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতিতে কি তবে সত্যিই কোনো স্থায়ী শত্রু বা মিত্র থাকে না? নাকি ক্ষমতার হাতবদল হতেই রঙ বদলানোর খেলায় মেতে ওঠেন রাজনীতির কারবারিরা? ঠিক এই প্রশ্নটাই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে। একদিকে যখন সাবেক শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে নজিরবিহীন সংকট, পরিষদীয় দল বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে এবং দল ক্ষমতার বাইরে, ঠিক তখনই এক বিস্ফোরক সামাজিক মাধ্যম পোস্টে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অতীতের সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্য সমালোচনায় সরব হলেন তাঁরই দলের রাজ্যসভার সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়।
আজ সামাজিক মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে বাবুল সুপ্রিয় সরাসরি দাবি করেছেন, মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি তাঁর শাসনের প্রথম দিনগুলো থেকেই দুর্নীতি এবং জনসাধারণের অর্থ তছরুপের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ করতেন, তবে আজ পরিস্থিতি অন্য রকম হতে পারত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী শিবির এতদিন ধরে দুর্নীতির যে অভিযোগগুলো তুলে আসছিল, আজ তৃণমূলের শীর্ষ স্তরের এক নেতার মুখ থেকেই যেন পরোক্ষভাবে সেই সত্যেরই প্রতিধ্বনি শোনা গেল। ক্ষমতার মধু ফুরিয়ে আসতেই দলের ভেতরে যে কতটা তীব্র ফাটল ধরেছে, বাবুলের এই পোস্ট তারই প্রমাণ। তবে এই নাটকের সবচেয়ে বড় চমক অন্য জায়গায়। যিনি নিজে মন্ত্রীপদ খোয়ানোর পর রাতারাতি রঙ বদলে গেরুয়া শিবির থেকে জোড়াফুলে নাম লিখিয়েছিলেন, আজ তিনিই আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘নৈতিকতার’ লম্বা চওড়া পাঠ দিচ্ছেন!
বাবুলবাবু তাঁর পোস্টে লিখেছেন— কোনো দলের প্রতীক ও সংগঠনের জোরে জেতার পর যদি কেউ দল ছাড়েন, তবে তাঁর নির্বাচিত পদ থেকেও ইস্তফা দেওয়া উচিত, ঠিক যেমনটা তিনি নিজে বিজেপি ছাড়ার সময় লোকসভা আসন ছেড়ে করেছিলেন। সাধারণ মানুষ কিন্তু প্রশ্ন তুলছেন— যখন ক্ষমতার কেন্দ্রে ছিলেন, তখন তো নেত্রীর কোনো ভুল চোখে পড়েনি! আজ যখন দল সংকটে, খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই বাবুন বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যন্ত প্রকাশ্য ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, ঠিক তখনই কেন বাবুলবাবুর এই ‘বিবেক’ জাগ্রত হলো? একেই কি বলে ‘বসন্তের কোকিল’? নাকি ডুবন্ত জাহাজ থেকে সবার আগে গা বাঁচিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে কোনো নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত?
যদিও বাবুল সুপ্রিয় তাঁর পোস্টের শেষে স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, এই বক্তব্য সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ এবং এর সঙ্গে দলের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু রাজনীতির ময়দানে কোনো কথাই যে বিনা কারণে বলা হয় না, তা আমজনতাও বোঝে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব নিয়ে যখন দলের অন্দরেই টানাপোড়েন চলছে, তখন মমতার সিদ্ধান্তকে কাঠগড়ায় তুলে বাবুল আদতে নিজের পুরনো দল বিজেপিকেও পরোক্ষভাবে সতর্ক করেছেন অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য। বাংলা আজ দাঁড়িয়ে দেখছে এক অদ্ভুত দৃশ্য— ক্ষমতার অলিন্দ থেকে দূরে সরতেই কীভাবে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে তথাকথিত শৃঙ্খলা। আজ যিনি দলে আছেন, কাল তিনি কোন শিবিরের পতাকা হাতে তুলে নেবেন, তা বোধহয় স্বয়ং বিধাতাও জানেন না।
