Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বঙ্গে কি বড় ওলটপালট? শুভেন্দুর দরবারে হাজির ডায়মন্ড হারবারের নবনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ঐতিহাসিক পরিবর্তনের পর এবার কি জেলা স্তরেও শুরু হতে চলেছে বড় কোনো রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাস? এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে এই প্রশ্নই সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে আজ এক নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল ডায়মন্ড হারবার। একদিকে যখন জেলার প্রশাসনিক দপ্তরে বসে পুলিশ এবং প্রশাসনের শীর্ষকর্তাদের সঙ্গে হাই-প্রোফাইল পর্যালোচনা বৈঠক করছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, ঠিক তখনই সেই দপ্তরের বাইরে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে দেখা গেল বিরোধী শিবিরের অন্যতম হেভিওয়েট মুখ তথা ডায়মন্ড হারবারের নবনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক পান্নালাল হালদারকে। ২০২৬-এর নির্বাচনী ফল প্রকাশের মাত্র কয়েকদিনের মাথায় এই দৃশ্য সামনে আসতেই জল্পনার পারদ একধাক্কায় আকাশ ছুঁয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আজই প্রথমবার তৃণমূলের তথাকথিত ‘গড়’ বলে পরিচিত ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত ফলতায় প্রশাসনিক বৈঠক ও জনসভা করতে পৌঁছান শুভেন্দু অধিকারী। তিনি যখন ভেতরে জেলা প্রশাসনের হাই-লেভেল বৈঠক সারছিলেন, তখনই আকস্মিকভাবে সেখানে উপস্থিত হন তৃণমূল বিধায়ক পান্নালাল হালদার। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা স্বাভাবিকভাবেই এই দৃশ্য দেখে কৌতূহল চেপে রাখতে পারেননি। ক্যামেরা তাক হতেই তাঁরা প্রশ্ন করেন, “এই সময়ে আপনি এখানে কেন?” জবাবে অত্যন্ত মার্জিত ও শান্ত গলায় বিধায়ক বলেন, ‘‘আমি তো দেখা করতে এসেছি।’’ ভিতরে যেখানে মুখ্যমন্ত্রী খোদ পুলিশকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন, সেখানে বিরোধী দলের এক বিধায়কের এই ‘সাক্ষাৎপ্রার্থনা’ নিছকই প্রশাসনিক নাকি এর পেছনে অন্য কোনো সমীকরণ রয়েছে, তা নিয়ে জল্পনা দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটি বড় অংশের মতে, ভারতীয় গণতন্ত্রের সুস্থ ঐতিহ্য অনুযায়ী নিজের বিধানসভা এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের স্বার্থে একজন বিরোধী বিধায়ক রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতেই পারেন। এটি সম্পূর্ণ সাংবিধানিক এবং আইনি প্রক্রিয়ার অংশ। পান্নালালবাবুর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবিও এটি একটি নিছকই সৌজন্য সাক্ষাৎপ্রার্থনা।

তবে রাজনীতির কারবারিরা এর টাইমিং বা সময় নির্বাচনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন। কারণ, সবেমাত্র বঙ্গে সরকার পরিবর্তন হয়েছে এবং বিজেপি শাসনভার গ্রহণ করেছে। এই আবহে তৃণমূলের অন্দরে এই ঘটনা নতুন কোনো অস্বস্তি বা দলের অন্দরে কোনো নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে ফিসফাস শুরু হয়েছে শাসক শিবিরেও।

Exit mobile version