Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বিনোদন জগতে মহাপ্রলয়: চিরদিনের জন্য স্তব্ধ হয়ে গেল ‘কৃষ্ণ’ রাহুলের কণ্ঠ, শোকাতুর টলিউড!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
রবিবার বিকেলে যেন বিনোদন জগতের ওপর আকাশ ভেঙে পড়ল। ওড়িশার বালেশ্বর সংলগ্ন তালসারি সমুদ্র সৈকতে শুটিং করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন টলিউডের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। মাত্র ৪৩ বছর বয়সেই থেমে গেল তার বর্ণিল জীবনযাত্রা। যে প্রিয় অভিনেতার হাসি আর সংলাপে দর্শকরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে থাকতেন, আজ সেই মানুষটিই নিথর দেহ হয়ে ফিরে এলেন কলকাতায়।

সূত্রের খবর, রাহুল তাঁর নতুন মেগা ধারাবাহিক ‘ভোলে বাবা পার করেগা’-র শুটিংয়ের জন্য ওড়িশায় গিয়েছিলেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শুটিংয়ের ফাঁকে বা শুটিং শেষ করে তিনি সমুদ্রে নেমেছিলেন। সমুদ্রের প্রবল ঢেউ আর জোয়ারের কবলে পড়ে তিনি ভারসাম্য হারান। দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে দিঘা মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। কিছু প্রত্যক্ষদর্শী আবার জানিয়েছেন, স্পিডবোট থেকে পড়ে গিয়েই এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে দুর্ঘটনার কারণ যাই হোক না কেন, বাংলা চলচ্চিত্র জগত হারাল এক বলিষ্ঠ অভিনয় শিল্পীকে।

২০০৮ সালে পরিচালক রাজ চক্রবর্তীর ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ছবি দিয়ে টলিউডে পদার্পণ করেছিলেন রাহুল। ‘কৃষ্ণ’ চরিত্রে তাঁর অভিনয় রাতারাতি তাঁকে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে দিয়েছিল। সেই ছবির সংলাপ আর রাহুলের চাহনি আজও দর্শকদের মনে টাটকা। এরপর তিনি একে একে উপহার দিয়েছেন অসংখ্য হিট চলচ্চিত্র এবং জনপ্রিয় মেগা সিরিয়াল। ‘তুমি আসবে বলে’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে তিনি ড্রয়িংরুমের প্রিয় সদস্য হয়ে উঠেছিলেন। কেবল কমার্শিয়াল ছবি নয়, সমান্তরাল ধারার ছবিতেও রাহুলের অভিনয় দক্ষতা ছিল প্রশ্নাতীত।

রাহুলের অকাল প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে স্টুডিও পাড়ায়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক শোকবার্তায় জানিয়েছেন, “রাহুল ছিল অত্যন্ত প্রতিভাবান এবং আমার অন্যতম প্রিয় একজন অভিনেতা। তাঁর এই চলে যাওয়া টলিউডের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। আমি তাঁর পরিবার ও অনুরাগীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই।” রাহুলের দীর্ঘদিনের সহকর্মীরাও বাকরুদ্ধ। অভিনেতা-অভিনেত্রীদের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো আজ কেবলই রাহুলের স্মৃতিতে ভরা। কেউ বিশ্বাস করতে পারছেন না যে, প্রাণোচ্ছ্বল রাহুল আর নেই।

রাহুল কেবল একজন অভিনেতা ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক লড়াকু ব্যক্তিত্ব। ব্যক্তিজীবনে উত্থান-পতন আসলেও তিনি বারবার কামব্যাক করেছেন স্বমহিমায়। মৃত্যুকালে তিনি রেখে গেলেন তাঁর স্ত্রী অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার এবং তাঁদের ১৩ বছর বয়সী পুত্রকে। প্রিয়াঙ্কা ও রাহুলের সম্পর্কের রসায়ন বরাবরই অনুগামীদের চর্চায় থাকত। কয়েক বছর বিচ্ছেদের পর আবারও তাঁরা কাছাকাছি আসার চেষ্টা করছিলেন ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবে। কিন্তু নিয়তির নিষ্ঠুর খেলায় সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।

রাহুলের নিথর দেহ যখন কলকাতায় নিয়ে আসা হবে, তখন সেখানে প্রিয় অভিনেতাকে শেষবারের মতো দেখতে ভিড় জমাবেন হাজার হাজার মানুষ। তাঁর স্মৃতিগুলো রয়ে যাবে তাঁর সৃষ্টি করা চরিত্রের মাঝে। তিনি চলে গেছেন, কিন্তু ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর সেই কৃষ্ণ হয়ে তিনি বেঁচে থাকবেন বাঙালির হৃদয়ে।

ওপারের পৃথিবীতে রাহুল ভালো থাকুন, শান্তিতে থাকুন—আজ এই প্রার্থনাই সবার। বিদায় রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়, বাংলা সিনেমা তোমাকে মিস করবে প্রতিটা মুহূর্তে।

Exit mobile version