প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মেগা সমাবেশের কাউন্টডাউন শুরু হতেই বাংলার রাজনীতিতে ঘটে গেল এক চরম নাটকীয় পটপরিবর্তন। কালীঘাট শিবিরের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক চুকিয়ে দিয়ে বিধানসভার বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যাম্পে যোগ দিলেন বনগাঁর দাপুটে নেতা তথা প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক বিশ্বজিৎ দাস। বিধানসভায় গিয়ে সরাসরি ঋতব্রতের ঘরে তাঁর সঙ্গে বৈঠক সেরে বিশ্বজিৎ স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “এখন রাজ্যের অপজিশন লিডার ঋতব্রতদাই আমার লিডার”। একই দিনে তাঁর পথ অনুসরণ করে ঋতব্রত শিবিরে নাম লিখিয়েছেন রাজারহাটের প্রভাবশালী নেতা তাপস চট্টোপাধ্যায়ও। মেগা ইভেন্টের ঠিক চার দিন আগে এই জোড়া দলবদল কালীঘাট শিবিরের অন্দরে বড়সড় ধাক্কা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা প্রকাশ করলেও, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে আজ ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন বিশ্বজিৎ দাস। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বনগাঁ উত্তর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হন তিনি। বিশ্বজিতের অভিযোগ, ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই দলের শীর্ষ নেতৃত্ব একপ্রকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে, যার ফলে নিচুতলার কর্মীদের মধ্যে তীব্র অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।অভিষেকের নাম সরাসরি না নিলেও তাঁর ব্যবহার নিয়ে ক্ষুব্ধ বিশ্বজিৎ সাংবাদিকদের বলেন, “সকলেই যখন তাঁর আচার-আচরণ নিয়ে কথা বলছেন, তখন একটা বিষয় তো নিশ্চয়ই আছে। দলে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে একের পর এক বিধায়ক বিদ্রোহ ঘোষণা করে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে চলে আসছেন। আমি নিশ্চিতভাবেই তার ব্যতিক্রমী মানুষ নই।”
বিশ্বজিৎ দাসের রাজনৈতিক গ্রাফ বরাবরই চমকে দেওয়ার মতো। ২০১১ এবং ২০১৬ সালে তৃণমূলের টিকিটে বিধায়ক হওয়ার পর তিনি বনগাঁ সাংগঠনিক জেলার সভাপতির দায়িত্ব সামলান। তবে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে তিনি দল বদলে বিজেপিতে যান এবং বাগদা কেন্দ্র থেকে পদ্ম শিবিরের বিধায়ক নির্বাচিত হন। কিন্তু সেখানেও মন টেকেনি তাঁর। নির্বাচনের কয়েক মাসের মধ্যেই ফের বিধানসভায় মমতার ঘরে গিয়ে তৃণমূলে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। ২০২৬-এর নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর আবারও দলবদল করলেন এই হেভিওয়েট নেতা।
মঞ্চ থেকে যখন দল নতুন বার্তা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই এই ভাঙন কালীঘাট তৃণমূলের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বজিৎ ও তাপসের এই পদক্ষেপ শুধু ব্যক্তিগত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং এর পেছনে নিচুতলার এক বড় অংশের সাংগঠনিক ক্ষোভ লুকিয়ে রয়েছে। এই দলবদলের পর ঋতব্রত শিবিরের শক্তি যেমন কয়েক গুণ বেড়ে গেল, তেমনই কালীঘাট বনাম ঋতব্রত শিবিরের সংঘাত আগামী দিনে আরও কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
