প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে ভাঙনের যে খেলা শুরু হয়েছে, তা এখন এক নজিরবিহীন নাটকীয় মোড় নিয়েছে। গত জুন মাসে সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং কোয়েল মল্লিকের মতো হেভিওয়েট সাংসদদের ইস্তফার পর, এবার কালীঘাটের রক্তচাপ বাড়িয়ে দল ছাড়ার তালিকায় যুক্ত হতে চলেছে আরও এক প্রথম সারির নাম। তিনি আর কেউ নন, রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী তথা বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব ব্রাত্য বসু।রাজনৈতিক মহলের অন্দরের খবর, সমস্ত জল্পনা সত্যি করে ব্রাত্য বসু এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে বিধানসভার বর্তমান বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বিদ্রোহী’ বা ‘আসল তৃণমূল’ শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন। আর এই দলবদল সম্পন্ন হতে পারে আগামী ২০ জুলাই (সোমবার), অর্থাৎ ২১ জুলাইয়ের ঐতিহাসিক শহিদ দিবসের ঠিক আগের দিন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলবদলের এই হাওয়া তীব্র গতি পেয়েছে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক ফেসবুক লাইভ বার্তার পর। কোয়েল মল্লিকের ইস্তফার ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই মমতা কড়া ভাষায় তাঁর দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, “যাঁদের ইডি-সিবিআই বা মামলার চাপে চলে যাওয়ার ইচ্ছে আছে, তাঁরা ২১ জুলাইয়ের আগেই লোটাকম্বল নিয়ে চলে যান”। নেত্রীর এই ‘লোটাকম্বল’ বার্তার পরই যেন ব্রাত্য বসুর দলবদলের প্রক্রিয়া আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, নেত্রীর নির্দেশকে এক প্রকার ‘মান্যতা’ দিয়েই ২১ জুলাইয়ের মঞ্চে না দাঁড়িয়ে, তার আগেই নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে নিচ্ছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী।
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে দমদম কেন্দ্র থেকে পরাজিত হওয়ার পর থেকেই কার্যত লোকচক্ষুর অন্তরালে চলে গিয়েছিলেন ব্রাত্য বসু। রাজ্য রাজনীতিতে একসময় দাপিয়ে বেড়ানো এই নেতাকে কালীঘাটের কোনো গুরুত্বপূর্ণ দলীয় বৈঠকেও দেখা যাচ্ছিল না। দল ও সংগঠনের সঙ্গে এই ক্রমবর্ধমান দূরত্বই তাঁর শিবির বদলের জল্পনাকে প্রতিদিন উস্কে দিচ্ছিল। রাজনৈতিক সূত্রের খবর, উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ব্রাত্য বসুর মতো এক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বকে নিজেদের পক্ষে টেনে ওই অঞ্চলে সংগঠনের রাশ মজবুত করতে চাইছে ঋতব্রত শিবির।
ঘাসফুল শিবিরের এই আড়াআড়ি ভাঙন কেবল ব্রাত্য বসুতেই সীমাবদ্ধ নেই। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, বর্তমান নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারিয়ে একের পর এক শীর্ষ নেতা এখন বিকল্প পথের খোঁজে। ইতিমধ্যেই বিধায়ক মদন মিত্র মমতা শিবির ছেড়ে ঋতব্রতর হাত ধরেছেন। সেই একই পথ অনুসরণ করে জঙ্গলমহলের প্রভাবশালী আদিবাসী নেত্রী তথা প্রাক্তন বিধায়ক সন্ধ্যারাণী টুডু এবং রাজারহাটের হেভিওয়েট নেতা তাপস চট্টোপাধ্যায়েরও ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়া এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা বলে মনে করা হচ্ছে।
যদিও এই সম্ভাব্য দলবদল নিয়ে ব্রাত্য বসু নিজে বা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা সিলমোহর দেওয়া হয়নি। তবে ২০ জুলাই যদি সত্যিই ব্রাত্য বসু তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এই নতুন ‘অঙ্ক’ শুরু করেন, তবে তা ২১ জুলাইয়ের প্রাক্কালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর মূল শিবিরের জন্য এক বিরাট রাজনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন পুরো বাংলার নজর সোজা সোমবারে কলকাতার রাজনৈতিক মঞ্চের দিকে।
