প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দলের অন্দরে আড়াআড়ি বিভাজন তো ছিলই, এবার চারশো কোটি টাকারও বেশি তহবিলের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হলো ‘কালীঘাট-তৃণমূল’ শিবিরের। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ বা লেনদেন বন্ধ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আর্জি জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল। কিন্তু আইনি লড়াইয়ের শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খেতে হলো তাদের। দ্রুত শুনানির সেই বিশেষ আবেদন সাফ খারিজ করে দিল হাইকোর্ট।
এদিন মামলাটির গুরুত্ব ও দলের দৈনন্দিন খরচের সমস্যার কথা উল্লেখ করে তৃণমূল শিবিরের আইনজীবীরা ফাস্ট-ট্র্যাক শুনানির জন্য আদালতের কাছে বিশেষ অনুরোধ জানান। তবে সেই আর্জি নাকচ করে দিয়ে একক বেঞ্চের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অত্যন্ত কড়া অবস্থান নেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন— “কাউকেই কোনও বাড়তি সুবিধা নয়, তালিকা মেনেই শুনানি হবে”। বিচারপতির এই এক লাইনের পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, আর পাঁচটা সাধারণ মামলার মতোই এই হাই-প্রোফাইল মামলাটিকেও আদালতের স্বাভাবিক কজ লিস্টের ক্রম অনুযায়ীই অপেক্ষা করতে হবে।
সমস্যার সূত্রপাত কয়েক দিন আগে, যখন দলেরই ক্ষুব্ধ ও বিদ্রোহী বিধায়কদের একটি অংশ বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগকারীদের দাবি ছিল, দলীয় তহবিলের ওই অ্যাকাউন্টগুলিতে জমা থাকা প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার উৎসে চরম অস্বচ্ছতা রয়েছে এবং এর পেছনে কাটমানি বা কোনো দুর্নীতির যোগ থাকতে পারে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ অ্যাকাউন্টগুলির সমস্ত বহির্মুখী লেনদেন বা ডেবিট অপারেশন সাময়িকভাবে বন্ধ (Debit Freeze) করে দেয়।
রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের এমন বিপুল অঙ্কের তহবিল আটকে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বড়সড় চাপে পড়েছে শীর্ষ নেতৃত্ব। এই আর্থিক অচলাবস্থা থেকে দ্রুত মুক্তি পেতে আদালতের দ্রুত হস্তক্ষেপ চেয়েছিল কালীঘাট, কিন্তু হাইকোর্টের এই অনড় অবস্থানের পর আইনি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক নিয়মে কত দিনে এগোয় এবং ৪৪০ কোটির এই ‘লক’ কবে খোলে, সেটাই এখন দেখার।
