প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভায় বিধায়কদের সই জাল করার মামলায় তদন্তের পরিধি আরও বাড়াল রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা। আজ, মঙ্গলবার বিকেলে একই সময়ে একযোগে তৃণমূলের দুটি প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছালেন সিআইডি (CID) আধিকারিকরা। একদিকে যখন কালীঘাটে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, ঠিক একই সময়ে কলকাতার ক্যামাক স্ট্রিটে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অফিসেও প্রবেশ করেছে সিআইডি-র আরেকটি তদন্তকারী দল। একই দিনে দুই হাইপ্রোফাইল অফিসে এই জোড়া অভিযানে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
মঙ্গলবার বিকেলে ঘড়ির কাঁটা ধরে একই সময়ে সিআইডির পৃথক দুটি বিশেষ দল কালীঘাট এবং ক্যামাক স্ট্রিটে পৌঁছায়। বিধানসভার সই জাল কাণ্ডের মূল নথি ও প্রয়োজনীয় ডিজিটাল প্রমাণের খোঁজে দুটি অফিসেই একযোগে তল্লাশি চালানো হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। আজ বিকেল ৫টায় ভবানী ভবনে সিআইডি সদর দফতরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হওয়ার কথা ছিল। তবে শারীরিক অসুস্থতা এবং কলকাতার বাইরে থাকার কারণ দর্শিয়ে তিনি হাজিরা এড়ানোর পরেই সিআইডি সরাসরি তাঁর ক্যামাক স্ট্রিটের কার্যালয়ে টিম পাঠায়। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, সই জাল মামলার নোটিসের জবাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সিআইডি-কে লিখিতভাবে জানিয়েছিলেন যে বিধায়কদের ওই স্বাক্ষরগুলি দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংগ্রহ করা হয়েছিল। নিজের দেওয়া সেই বয়ানের ওপর ভিত্তি করেই আজ এই দুই অফিসে হানা দিয়ে প্রমাণের সত্যতা যাচাই করছে সিআইডি।
কালীঘাটে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে তদন্তকারীরা পৌঁছালে প্রথমে ভেতরে প্রবেশ করা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ বচসা ও নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বজায় রাখতে এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হলে তদন্তকারীরা কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশ করতে সক্ষম হন। সূত্রের খবর, ক্যামাক স্ট্রিট ও কালীঘাটের দুই কার্যালয় থেকেই সই সংগ্রহের দায়িত্বে থাকা কর্মীদের বয়ান রেকর্ড করার পাশাপাশি কম্পিউটার হার্ডডিস্ক ও সিসিটিভি ফুটেজের মতো গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল নথি পরীক্ষার প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
তৃণমূলের জোড়া কার্যালয়ে সিআইডি তল্লাশি নিয়ে স্বভাবতই সুর চড়িয়েছে বিরোধী শিবির। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, “আইন সবার জন্য সমান। বিধায়কদের সই জাল করার মতো জঘন্য জালিয়াতির ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। তদন্তকারী সংস্থা আইনের পথেই নিজের কাজ করছে।” অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই অভিযানকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ বলে দাবি করা হয়েছে। দুই কার্যালয়ের এই যৌথ তল্লাশি থেকে তদন্তকারীরা শেষ পর্যন্ত কী কী তথ্য উদ্ধার করেন, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
