Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

Big breaking দিল্লিতে পিসি-ভাইপো, কলকাতায় মমতার বাড়ির উল্টোদিকে তৃণমূল অফিসে সিআইডি হানা!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং যুবরাজ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যখন দিল্লির এয়ারকন্ডিশনড ঘরে বসে বিরোধী জোটের দর কষাকষিতে ব্যস্ত, ঠিক তখনই কলকাতার মাটিতে বড়সড় ধাক্কা খেল তৃণমূল কংগ্রেস। খোদ মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ায়, কালীঘাটের দলীয় কার্যালয়ে আজ অতর্কিতে হানা দিল সিআইডি (CID)-র একটি দল। বিধায়কদের সই জালিয়াতির মতো নজিরবিহীন জালিয়াতি মামলার তদন্তে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দাদের এই অভিযান ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে।সিআইডি সূত্রে খবর, এই সই জালিয়াতি মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে যখন নোটিস পাঠানো হয়েছিল, তখন তিনি তদন্তকারীদের একটি লিখিত জবাব দেন। সূত্রের দাবি, সেই চিঠিতে অভিষেক উল্লেখ করেছিলেন যে, বিতর্কিত বিধায়কদের সইগুলি সংগ্রহ করা হয়েছিল কালীঘাটের ৩০বি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের এই মূল দলীয় কার্যালয়টিতেই। সিআইডি সূত্রে দাবি, সেই বয়ানের সত্যতা ও তথ্যের উৎস খতিয়ে দেখতেই মঙ্গলবার দুপুরে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান ১৭ জন আধিকারিকের বিশেষ দল।

গত ১৯ মে বিধানসভার সচিবালয়ে বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করে তৃণমূলের তরফে একটি চিঠি জমা দেওয়া হয়। তৃণমূলেরই বিদ্রোহী বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা সরাসরি অভিযোগ তোলেন, ওই নথিতে থাকা একাধিক বিধায়কের সই সম্পূর্ণ জাল! এমনকি, ঘটনার দিন বহু বিধায়ক বিধানসভাতেই উপস্থিত ছিলেন না বলে তাঁদের দাবি। বিধানসভার প্রধান সচিবের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়েরের পর গত ২৮ মে তদন্তভার নেয় সিআইডি। তারা ইতিমধ্যেই ১৩ জন বিধায়কের গোপন বয়ান রেকর্ড করেছে বলে সূত্রের খবর, যা সরাসরি তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের দিকে আঙুল তুলছে।

কালীঘাটের মতো হাই-প্রোফাইল এলাকায় সিআইডি হানার খবর ছড়াতেই এলাকায় তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সিআইডি তল্লাশিকে কেন্দ্র করে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে মমতার বাড়ির মূল গেটের সামনে এবং পার্টি অফিসের চারপাশে বিশাল পুলিশ ফোর্স এবং মহিলা সিআইডি টিম মোতায়েন করা হয়েছে। একদিকে রাজ্যে নিজেদের দলের দুর্নীতি ঢাকতে ‘স্বচ্ছতা’র বুলি আওড়াচ্ছে ঘাসফুল শিবির, আর অন্যদিকে খোদ দলের সর্বোচ্চ কার্যালয়টিই যে জালিয়াতি ও ভুয়ো সই চক্রের আখড়া হয়ে উঠেছিল, বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই সেই অভিযোগ তুলতে শুরু করেছে। দিল্লির বিলাসবহুল বৈঠক শেষে পিসি-ভাইপো কলকাতায় ফিরলে তাঁদের জন্য যে বড়সড় আইনি ও রাজনৈতিক অস্বস্তি অপেক্ষা করছে, তা বলাই বাহুল্য। তবে এই তল্লাশি নিয়ে তৃণমূল শিবিরের দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবেই এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে।

Exit mobile version