প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ঘড়ির কাঁটায় তখন রাত। গোটা কলকাতা যখন ঘুমোতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই দক্ষিণ কলকাতার চেতলায় তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী ফিরহাদ (ববি) হাকিমের দুয়ারে কড়া নাড়ল রাজ্য গোয়েন্দা পুলিশ (CID)। ২০২৬ সালের মে মাসে বাংলায় অভূতপূর্ব রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর, এই প্রথম তৃণমূলের কোনো শীর্ষ সারির হেভিওয়েট নেতার বাড়িতে এমন নজরকাড়া পুলিশি তৎপরতা চলল। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের নথিপত্রে বিধায়কদের ভুয়ো স্বাক্ষর সংক্রান্ত যে ভয়াবহ জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে, তার জট খুলতেই এবার খোদ তৃণমূল বিধায়কের মুখোমুখি সিআইডি কর্তারা। ক্ষমতার রাজদণ্ড হাতবদল হতেই যে তদন্তের চাকা উল্টোদিকে ঘুরতে শুরু করেছে, ৪ জুন রাতের এই ঘটনা তারই সবচেয়ে বড় প্রমাণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বেছে নেওয়ার জন্য তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের যে হাই-প্রোফাইল বৈঠক হয়েছিল, সেখানে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত হাজির ছিলেন এই ফিরহাদ হাকিম। ফলে রেজোলিউশন কপিতে ভুয়ো সই করার এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে তিনি অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিতে পারেন বলে ধারণা তদন্তকারীদের। সিআইডি আধিকারিকরা ববি হাকিমের ড্রয়িংরুমে বসেই তাঁর বয়ান রেকর্ড করেন। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, গোয়েন্দাদের মূল প্রশ্ন ছিল— যে সমস্ত বিধায়করা বৈঠকে উপস্থিতই ছিলেন না, তাঁদের সই কীভাবে খাতার পাতায় চলে এল? আর এই ঘটনার নেপথ্যে মূল ভূমিকা কার ছিল? এতদিন কেন্দ্রীয় এজেন্সি সিবিআই বা ইডি যখনই তৃণমূল নেতাদের বাড়িতে হানা দিত, তখনই দলের পক্ষ থেকে ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা’ বা ‘দিল্লির চক্রান্তের’ বাঁধা গৎ আওড়ানো হতো। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ ভিন্ন। মে মাসের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূল এখন নবান্নের ক্ষমতা হারিয়ে প্রধান বিরোধী আসনে। আর রাজ্য পুলিশ তথা সিআইডি এখন সরাসরি বর্তমান বিজেপি সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনে। ফলে, যে সিআইডি-র ভূমিকা নিয়ে এতদিন বিরোধী শিবিরে প্রশ্ন উঠত, আজ তারাই কোমর বেঁধে নেমেছে এই মামলার তদন্তে।
এর আগে পুরসভার নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও সিবিআই-এর ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়েছিল ববি হাকিমের এই চেতলা ভবন। তবে এবারের ধাক্কাটা এসেছে রাজ্যের নিজস্ব এজেন্সির কাছ থেকেই। বিজেপি শিবিরের স্পষ্ট দাবি, বিধানসভার মতো একটি পবিত্র জায়গায় বসে যারা বিধায়কদের সই জালিয়াতি করার সাহস পায়, তারা গত দেড় দশক ধরে বাংলার সাধারণ মানুষের ভাগ্য নিয়ে ঠিক কত বড় খেলা খেলেছে, এবার তা তদন্তে জনসমক্ষে আসবে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এই সমস্ত অভিযোগই ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তবে তৃণমূল বিধায়ক ববি হাকিমের বাড়িতে সিআইডি-র এই হানা যে রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন মোড় এনে দিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
