Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

জেলের ভেতর ‘মিনি নবান্ন’ চালাচ্ছিল শাহজাহানরা? নবান্ন থেকে শুভেন্দুর মেগা অ্যাকশন, কাঁপল ‘ঘুঘুর বাসা’!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সংশোধনাগার নাকি অপরাধের বিকল্প কর্পোরেট অফিস? দীর্ঘদিন ধরে চলা সেই ‘থ্রি-জি’ জমানার অরাজকতায় এবার এক ঝটকায় দাঁড়ি টানলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শুক্রবার নবান্নে এক হাই-ভোল্টেজ সাংবাদিক বৈঠক করে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সংশোধনাগারগুলির ভেতরে চলতে থাকা এক গভীর ও বিপজ্জনক চক্রের পর্দাফাঁস করলেন। প্রেসিডেন্সি জেলের ভেতরে অতর্কিতে তল্লাশি চালিয়ে ২৩ টি সক্রিয় মোবাইল ফোন ও সিম কার্ড বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নবান্ন থেকে সরাসরি বজ্রনিঘোষ শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীর গলায়। কর্তব্যে চরম গাফিলতি এবং অপরাধীদের মদত দেওয়ার অভিযোগে প্রেসিডেন্সি জেলের সুপার এবং চিফ কন্ট্রোলারকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

নবান্নের প্রেস কনফারেন্সে ক্ষোভ উগরে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই অনাচার একদিনের নয়। আগের তৃণমূল সরকারের চরম অপদার্থতা ও ঢিলেঢালা মনোভাবের সুযোগ নিয়ে বছরের পর বছর ধরে রাজ্যের জেলগুলিকে অপরাধের সেফ হাউস বানিয়ে ফেলা হয়েছিল। সন্দেশখালির কুখ্যাত শেখ শাহজাহান-সহ একাধিক দাগি অপরাধী ও গ্যাংস্টার জেলের চার দেওয়ালে বন্দি থেকেও দিব্যি স্মার্টফোন ও উচ্চপ্রযুক্তির নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে বাইরের অপরাধ জগৎ নিয়ন্ত্রণ করছিল। শুধু প্রেসিডেন্সি জেলাই নয়, দমদম ও বহরমপুরের মতো একাধিক সংশোধনাগারেও এই একই ধাঁচে সমান্তরাল অপরাধচক্র চালানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ পেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ প্রমাণ-সহ স্পষ্ট করে দেন, আইনের চোখে কেউ ছাড় পাবে না। “যে রক্ষক, সেই ভক্ষক হয়ে উঠেছে”— এই কড়া ভাষায় জেল প্রশাসনের একাংশের সমালোচনা করে তিনি সাফ জানিয়ে দেন যে, অপরাধী ও জেল কর্তৃপক্ষের অশুভ আঁতাত তিনি কোনওভাবেই বরদাস্ত করবেন না। এই যোগসাজশের প্রাথমিক প্রমাণ মিলতেই প্রেসিডেন্সি জেলের সুপার এন কুজুর এবং চিহ্ কন্ট্রোলার দীপ্ত ঘড়াইকে চাকরি থেকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। জেলবন্দিদের হাতে এই নিষিদ্ধ স্মার্টফোন এবং সিম কার্ড কীভাবে পৌঁছাল, তার উৎস খুঁজতে তদন্তের দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে রাজ্য গোয়েন্দা সংস্থা CID-র হাতে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বাজেয়াপ্ত হওয়া সিম কার্ডগুলি কার বা কাদের নামে তোলা হয়েছিল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করবে সিআইডি। উদ্ধার হওয়া ফোনগুলির কল ডিটেইলস রেকর্ড (CDR) খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জেলের বাইরে থাকা যে সমস্ত ব্যক্তি বা প্রভাবশালীরা জেলের ভেতরে বন্দিদের সঙ্গে ফোনে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন, তাঁদের প্রত্যেককে এই অপরাধের সহযোগী হিসেবে সহ-অভিযুক্ত করা হবে।

রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর শুভেন্দু অধিকারী যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে চলবেন, জেলের এই মেগা অ্যাকশন তারই অন্যতম বড় প্রমাণ। জেলের ভেতর থেকে অপরাধের জাল গুটিয়ে ফেলতে রাজ্য সরকার যে কোনও স্তরের প্রভাবশালীকে রেয়াত করবে না, তা আজ নবান্ন থেকেই স্পষ্ট করে দেওয়া হলো।

Exit mobile version