Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

তৃণমূলকে ধুয়ে মুছে সাফ করে বার কাউন্সিলে ফুটল পদ্ম! সল্টলেকের সিএম অফিস থেকে বড় খোলসা শুভেন্দুর!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর আইনি জগতেও তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিপত্যের অবসান ঘটাল শাসক দল বিজেপি। সোমবার (১২ অক্টোবর ২০২৬) আয়োজিত ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট বার কাউন্সিলের অফিস বেয়ারার নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বিজেপি-সমর্থিত প্যানেল। দীর্ঘ এক দশক ধরে বার কাউন্সিলের শীর্ষ পদে থাকা তৃণমূলের মমতাপন্থী হেভিওয়েট প্রার্থীদের বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছে পদ্ম শিবির। এই মেগা জয়ের পর সল্টলেকের অস্থায়ী কার্যালয় থেকে তৃণমূলকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

নির্বাচনে জয়ের পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি বড় বিষয় খোলসা করেন। তিনি জানান, ভোটের ঠিক আগের দিন (রবিবার) সল্টলেকের সেচ দফতরের (ইরিগেশন) বাংলোয়—যা বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রীর একটি কাজের জন্য ব্যবহার করা অবসরকালীন ক্যাম্প অফিস—মনোনীত প্রার্থীদের নিয়ে একটি বিশেষ বৈঠক হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজকে বার কাউন্সিলের সভাপতি, সহ সভাপতি এবং বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার প্রতিনিধি নির্বাচন ছিল। আমার সঙ্গে গতকালই সল্টলেকে ইরিগেশন বাংলো, যেটা সিএম-র কার্যালয় করা হয়েছে, ছুটির সময়, অবসরকালীন কার্যালয়, যদিও আমি আমার জায়গা, মানে আমি আমার রেসিডেন্স পরিবর্তন করিনি। এখানে যে প্রার্থীদের আমি মনোনীত করেছিলাম, সবার সঙ্গে আলোচনা করে, তাঁরা জয়জুক্ত হয়েছে তৃণমূলের প্রার্থীদের হারিয়ে।”

মুখ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বার কাউন্সিলের তিনটি প্রধান পদেই বিজেপি প্রার্থীরা বিপুল ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। সভাপতি (Chairman): বিজেপিপন্থী আইনজীবী সমীর পাল ১৮-৮ ভোটের বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। তিনি ২০১৬ সাল থেকে একটানা ১০ বছর এই পদে থাকা মমতাপন্থী আইনজীবী অশোক দেবকে পরাজিত করেন।সহ-সভাপতি (Vice-Chairman): বিজেপির আইনজীবী অজয় চৌবে ১৭-৯ ভোটে জয়ী হয়েছেন। বার কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া (BCI) প্রতিনিধি: পশ্চিমবঙ্গের একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন বিজেপি প্যানেলের অরুণ সরকার (১৭-৯ ভোট)।

আইন ও বিচার বিভাগ নিজের হাতে থাকায় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান যে, নবনির্বাচিত বার কাউন্সিল এবার রাজ্য সরকারের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবে। দুর্গাপূজার ছুটির পরেই নতুন কমিটির সাথে বৈঠকে বসে রাজ্যের আদালত ও আইনজীবীদের দীর্ঘদিনের পরিকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যা সমাধান ও আধুনিকীকরণের জন্য বড় অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিগত দিনে যারা এই নির্বাচনের প্রথম পর্বের ফল নিয়ে অতি-উৎসাহ দেখিয়েছিলেন, তাদের উদ্দেশ্যে খোঁচা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আজকের রাতটা ওদের জন্য শোকরাত হিসেবে যাপন করতে বলুন।”

Exit mobile version