প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভেতরের ক্ষোভ আর কতদিন চেপে রাখা যায়? অবশেষে ফুটন্ত কড়াই থেকে ঢাকনাটা আলগা হতেই বেরিয়ে এল আসল কঙ্কালটা। সই জালিয়াতি মামলার আইনি টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে বর্ষীয়ান আইনজীবী তথা সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন, তাতে চরম সংকটে ঘাসফুল শিবির। রাজনৈতিক মহলের মতে, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি এক ধাক্কায় দলের তথাকথিত ‘অনৈক্যের’ দেওয়ালটা ভেঙে চুরমার করে দিল।
সূত্রের খবর, সই জালিয়াতি কাণ্ডে নিজের আইনি রক্ষাকবচ চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এই হাই-প্রোফাইল মামলায় সওয়াল করার কথা ছিল স্বয়ং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু নাটকীয়ভাবে শেষ মুহূর্তে কল্যাণের পরিবারকে বার্তা পাঠানো হয়, এই মামলায় কল্যাণের পরিবর্তে অন্য এক জুনিয়র আইনজীবী সওয়াল করবেন। দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া আইনজীবী ও বর্ষীয়ান নেতার কাছে এই ঘটনা ছিল চরম ‘অপমান’। আর এই অপমানের বিরুদ্ধেই এবার সরাসরি বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন শ্রী বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, এই সিদ্ধান্ত আসলে যুবরাজের ‘ঔদ্ধত্যের’ এক চরম নিদর্শন, যা প্রবীণ নেতার আত্মসম্মানে সজোরে আঘাত করেছে।
ক্ষোভে ফেটে পড়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমের সামনে যা বলেছেন, তা রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল। নিজেকে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম ‘সৎ রাজনীতিক’ দাবি করে তিনি সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুলেছেন। কল্যাণবাবুর সাফ কথা, “আমি সৎ, ওর জন্য চোর অপবাদ কেন সইব?” অতি সম্প্রতি কলকাতা বিমানবন্দরে নামার পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করে যে ‘চোর চোর’ স্লোগান উঠেছিল, সেই প্রসঙ্গ টেনে কল্যাণের এই আক্রমণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। দলের এক প্রথম সারির নেতাই যখন মেনে নিচ্ছেন যে নির্দিষ্ট একজনের কাজকর্ম, আইনি বিতর্ক এবং লাইফস্টাইলের কারণে বাকিদেরও রাস্তায় নেমে ‘চোর’ অপবাদ শুনতে হচ্ছে, তখন বিরোধীদের আর নতুন করে কিছু বলার থাকে না।
এই সংঘাতের জল শুধু ক্ষোভপ্রকাশেই থমকে থাকেনি। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এক প্রকার চরমপত্র দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “মমতাদিকে বেছে নিতে হবে উনি আমি না অভিষেক!” এই এক লাইনের আলটিমেটাম আসলে প্রমাণ করে দেয়, দলের অন্দরে সিনিয়র বনাম জুনিয়রের যে ঠান্ডা লড়াই এতদিন ধরে চলছিল, তা এখন আর ঠাণ্ডা নেই। তা এখন এক চরম গৃহযুদ্ধে রূপ নিয়েছে।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ঝাঁঝালো এবং তীক্ষ্ণ আক্রমণ দলের ভাবমূর্তিকে খাদের কিনারায় এনে দাঁড় করিয়েছে। এতদিন যে দুর্নীতির অভিযোগগুলি নিয়ে চারিদিকে শোরগোল হতো, এবার দলের ঘরের লোকই স্বীকার করে নিলেন যে ভেতরের পরিস্থিতি কতটা শোচনীয়। একজনের আইনি সংকট এবং অহংকারের খেসারত কেন দলের অন্য নেতারা দেবেন—কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা এই যৌক্তিক প্রশ্নটি এখন গোটা রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে অলিন্দে ঘুরপাক খাচ্ছে।
