Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

‘রক্তের সম্পর্কের জন্য নেত্রী হননি মমতাদি!’ এবার সরাসরি সুপ্রিমোকে চরম হুঁশিয়ারি কল্যাণের, চরম সংকটে কি তৃণমূলের ভবিষ্যৎ?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে তৈরি হওয়া আদি-নব্য সংঘাতের আঁচ এবার গিয়ে পড়ল সরাসরি তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গায়ে। দলীয় নেতৃত্বের একাংশ এবং বিশেষ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে একাধিকবার মুখ খুললেও, এবার নজিরবিহীনভাবে সরাসরি দলনেত্রীকে এক হাত নিলেন প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বিস্ফোরক ভঙ্গিতে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো রক্তের সম্পর্কের জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার কোটি কোটি মানুষের নেত্রী হননি, বরং লক্ষ লক্ষ সাধারণ কর্মীর লড়াইয়ের জেরেই তিনি আজ এই জায়গায় পৌঁছেছেন।

গত মঙ্গলবার একুশের মঞ্চে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি সময় ধরে বক্তব্য রাখার কারণে দলনেত্রীর অসন্তোষের মুখে পড়েছিলেন কল্যাণ। এরপরই চরম অভিমানে মাঝপথেই মঞ্চ ছেড়ে বেরিয়ে যান তিনি। সেই ঘটনার রেশ টেনেই আজ এক বিস্ফোরক বিবৃতিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “গতকাল মঞ্চের ভিড় দেখে দিদি আমাকে আবারও অপমান করেছেন। কিন্তু দিদিকে বাস্তব পরিস্থিতিটা বুঝতে হবে। বাস্তবটা না বুঝলে তিনি নিজেই নিজের তৈরি করা দলটাকে একদিন শেষ করে দেবেন।”

দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরোক্ষ নিশানা করে তাঁর সংযোজন, “আমি অন্য কোনো ৮০ বা ২০ জন নেতার মতো নই যে যা বলা হবে মুখ বুজে মেনে নেব। আমি আমার জীবনের ৪০টি বছর, আমার যৌবন এবং পেশা মমতাদির জন্য এবং এই দলের জন্য উৎসর্গ করেছি। কিন্তু সবকিছু যদি কেবল একজনের (অভিষেক) চারপাশেই আবর্তিত হতে থাকে, তবে লড়াই করা কঠিন হয়ে যায়।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, রাজনীতি কি শুধু ঘর আর কালীঘাটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি মানুষের মধ্যে গিয়ে মার খাওয়া বা আন্দোলন করার নাম রাজনীতি?

দলে একের পর এক নেতার বিদ্রোহ এবং দলত্যাগের আবহে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কিন্তু স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তিনি এখনই দল ছাড়ছেন না। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একটি চরম আলটিমেটাম দিয়ে তিনি বলেছেন, “যে যেখানে খুশি চলে যাক, কিন্তু যারা দলবিরোধী কাজ করে বাইরে যাচ্ছে, তাদের যদি আবারও কোনোদিন দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়, তবে আমি প্রকাশ্যেই দল ছেড়ে চলে যাব। দিদিকে এবার সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি তাঁর রক্তের সম্পর্ককে রাখবেন, নাকি আমাদের মতো লড়াই করা পুরনো কর্মীদের রাখবেন।”

রাজ্যে ক্ষমতা হারানোর পর এমনিতেই দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে ঘাসফুল শিবিরের। তার ওপর কল্যাণের এই সোজা ব্যাটে দলনেত্রীকে আক্রমণ যে দলের অভ্যন্তরীণ ফাটলকে পুরোপুরি জনসমক্ষে এনে দিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই রাজনৈতিক মহলের।

Exit mobile version