Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

২১-এর সমাবেশ শেষেই মাঝরাতে তীব্র ক্ষোভ! ‘কালীঘাট সূত্রই শেষ করবে…’, কাকে নিশানা করলেন প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-একুশে জুলাইয়ের কর্মসূচির মঞ্চে তৈরি হওয়া ‘অস্বস্তি’ এবং আচমকা সভাত্যাগ নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতি তোলপাড়, ঠিক তখনই মাঝরাতে সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে বোমা ফাটালেন শ্রীরামপুরের প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। মেগা সমাবেশের নাটকীয় ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নিজের ওয়ালে দীর্ঘ পোস্ট করে দলের ভেতরের এক প্রভাবশালী অংশকে তীব্র আক্রমণ করেছেন তিনি। তাঁর সাফ কথা— “এই ধরণের কালীঘাট সূত্রই শেষ পর্যন্ত দলটাকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।” বাংলার রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বিজেপি এখন এরাজ্যের নতুন শাসক দল। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রধান বিরোধী শিবিরের অন্দরে কল্যাণের এমন বিস্ফোরক বাণ এক নতুন রাজনৈতিক ঝড়ের পূর্বাভাস দিচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মূলত ২১শে জুলাইয়ের কর্মসূচির মঞ্চে ঠিক কী ঘটেছিল, তার একটি পুঙ্খানুপুঙ্খ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। কোনো লুকোছাপা না করেই তিনি নিজের ক্ষোভ উগরে দিয়ে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। কল্যাণবাবুর দাবি, মঞ্চে উপস্থিত হওয়ার পর পরিস্থিতি অনুযায়ী তাঁকে বক্তব্য রাখতে হয়েছিল। তিনি যখন ভাষণ দিচ্ছিলেন, তখন মাঝপথে প্রথমে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পরবর্তীতে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সভাস্থলে আসেন। শীর্ষ নেতৃত্বকে স্বাগত জানাতে তাঁকে বারবার নিজের বক্তব্য থামাতে হয়েছিল, যার ফলেই ভাষণের সময়সীমা কিছুটা দীর্ঘ মনে হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল, বক্তব্য দীর্ঘ করায় শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর ওপর কিছুটা ক্ষুব্ধ হন। তবে কল্যাণবাবুর দাবি, তিনি স্বয়ং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুমতি নিয়েই বক্তব্য জারি রেখেছিলেন। পোস্টে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সবচেয়ে বড় আক্রমণটি শানিয়েছেন দলের অভ্যন্তরে থাকা ‘কালীঘাট সূত্র’-র বিরুদ্ধে। সম্প্রতি কিছু বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে ‘কালীঘাট সূত্র’ উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে যে সব খবর রটানো হচ্ছে, তার তীব্র প্রতিবাদ করেছেন তিনি। তিনি স্পষ্ট লিখেছেন, দলেরই কিছু লোক শীর্ষ নেতৃত্বের কান ভাঙাচ্ছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে সুপরিকল্পিতভাবে ভুল তথ্য পরিবেশন করছেন।

ক্ষমতা হারানোর পর যখন দল কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন নিজের ত্যাগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে এই পোস্টে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাংসদ। তিনি লিখেছেন, বিগত দু’মাসে গ্রেফতারির ভয় বা অন্য কোনো কারণে দলের বহু বড় বড় বক্তা যখন জেলার কর্মীদের কাছে যাওয়ার সাহস দেখাননি, তখন তিনি নিজে একক দায়িত্বে একাধিক জেলায় ছুটে গিয়েছেন এবং কর্মীদের চাঙ্গা রেখেছেন। এত কিছুর পরও দলের একাংশের কাছ থেকে এই ধরণের ‘অপমান’ বা ‘অবমূল্যায়ন’ তাঁর কোনোভাবেই প্রাপ্য ছিল না বলে ঘনিষ্ঠ মহলে আক্ষেপ করেছেন তিনি।

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূল যখন নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই ‘কালীঘাট সূত্র’ বনাম ‘দলের পুরনো সৈনিকদের’ এই ঠান্ডা লড়াই আগামী দিনে বিরোধী শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার।

Exit mobile version