Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বিদ্রোহের ধাক্কায় মেজাজ হারালেন কল্যাণ? দলত্যাগীদের ‘দ্বিমুখী চরিত্রের’ ও ‘খারাপ রক্ত’ বলে নজিরবিহীন আক্রমণ!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় ক্ষমতা হারানোর পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে চলা নজিরবিহীন বিদ্রোহের মুখে ভাষার নিয়ন্ত্রণ হারানোর অভিযোগ উঠল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দিল্লিতে এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক ডেকে দলের প্রবীণ ও বিদ্রোহী সাংসদদের কার্যত বেনজির ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলের লোকসভার মুখ্য সচেতক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সাংসদ কীর্তি আজাদ। দল ছাড়ার ইঙ্গিত দিতেই নিজের দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের ‘দ্বিমুখী চরিত্রের’ (Double Character) এবং শরীরের ‘খারাপ রক্ত’ (Bad Blood) বলে দাগিয়ে দিলেন কল্যাণ, যা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

দিল্লির প্রেস কনফারেন্সে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর স্বভাবসিদ্ধ আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে দাবি করেন, যারা দলবিরোধী কাজ করছিলেন, তাঁরা চলে যাওয়ায় নাকি তৃণমূল কংগ্রেস ‘অত্যন্ত খুশি’। কিন্তু রাজনৈতিক সৌজন্যের সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বিদ্রোহী সাংসদদের উদ্দেশে সরাসরি বলেন, “এই দোভাষী ও দ্বিমুখী চরিত্রের (Double Character) লোকেরা দল থেকে চলে যাওয়ায় আমরা খুশি। আমাদের এখন তাজা রক্ত দরকার।” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, নিজের দলেরই নির্বাচিত ২০ জন জনপ্রতিনিধিকে এভাবে প্রকাশ্য সংবাদমাধ্যমে ‘দ্বিমুখী চরিত্র’ বলে আক্রমণ করা আসলে দল ছাড়তে থাকা নেতাদের প্রতি মমতা শিবিরের তীব্র হতাশারই বহিঃপ্রকাশ।

বিদ্রোহী সাংসদদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং লোকসভায় দলে বড় ভাঙন প্রায় নিশ্চিত দেখে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আরও এক ধাপ এগিয়ে মন্তব্য করেন, এই সাংসদদের দলত্যাগ আসলে তৃণমূলের শরীর থেকে ‘খারাপ রক্ত’ বের হয়ে যাওয়ার মতো। তিনি দাবি করেন, সংখ্যাটা ২০ পার হয়ে গেলেও তাঁদের কিছু যায় আসে না। বিরোধী রাজনৈতিক মহলের পাল্টা দাবি, যে সমস্ত বর্ষীয়ান নেতারা বছরের পর বছর রক্ত-ঘাম দিয়ে বাংলায় তৃণমূলকে টিকিয়ে রেখেছিলেন, আজ শীর্ষ নেতৃত্বের একাধিপত্যের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলতেই তাঁরা রাতারাতি তৃণমূলের কাছে ‘খারাপ রক্ত’ হয়ে গেলেন! এই ধরনের কুরুচিকর মন্তব্য প্রমাণ করে যে এই দলের অন্দরে ভিন্ন মতের কোনো স্থান নেই।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাকলি ঘোষ দস্তিদার বা সুখেন্দুশেখর রায়ের মতো প্রবীণ ও হেভিওয়েট নেতারা যখনই লোকসভার স্পিকারের কাছে আলাদা গোষ্ঠীর দাবি জানিয়েছেন, তখনই পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে কালীঘাটের। দিল্লিতে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কীর্তি আজাদের এই জরুরি প্রেস কনফারেন্স আসলে সেই প্রবল চাপের ও আতঙ্কের প্রমাণ। ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে এসে যেভাবে তাঁরা নিজেদের দলেরই নির্বাচিত সাংসদদের রাজনৈতিক চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তুললেন, তাতে ক্ষোভের আগুন আরও বাড়বে বৈ কমবে না।

বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের স্পষ্ট বক্তব্য, বাংলায় ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এবার তৃণমূলের সংসদীয় দলেও বিদায়ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। দল সম্পূর্ণ ভেঙে যাওয়ার ভয়ে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে এখন নিজেদের সাংসদদেরই কুরুচিকর ভাষায় আক্রমণ করছেন মমতার দূতেরা। বাংলার মানুষ তৃণমূলের এই অহংকারের জবাব গণতান্ত্রিকভাবেই দিয়েছে এবং আগামীদিনেও দেবে।

Exit mobile version