Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

সংসদ থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পরেই শমীক ভট্টাচার্যের মুখোমুখি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়! সংসদ চত্বরে সৌজন্য বিনিময় ঘিরে জোর রাজনৈতিক চর্চা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-লোকসভার চলতি বাদল অধিবেশন থেকে সাসপেন্ড হওয়ার ঠিক পরেই সংসদ চত্বরে এক নজিরবিহীন ও সৌজন্যমূলক দৃশ্যের মুখোমুখি হলেন রাজনৈতিক মহলের প্রতিনিধিরা। লোকসভা কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসার পর তৃণমূল কংগ্রেসের প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মুখোমুখি দেখা হয় বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ তথা পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। সংসদ চত্বরে দাঁড়িয়ে দুই বিরোধী শিবিরের এই দুই শীর্ষ নেতাকে হাসিমুখে হাত মেলাতে এবং বেশ কিছুক্ষণ কথা বলতে দেখা যায়। সেই সময় সেখানে তৃণমূলের অপর সাংসদ মহুয়া মৈত্রও উপস্থিত ছিলেন।

এদিন লোকসভার অধিবেশন চলাকালীন তৃণমূল কংগ্রেস থেকে সম্প্রতি দলত্যাগ করা এবং বর্তমানে এনসিপিআই (NCPI) দলের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায় ও মিতালী বাঘের সঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তীব্র বাদানুবাদ ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় হয়। ওই মহিলা সাংসদদের উদ্দেশ্যে ‘অসংসদীয় ও আপত্তিকর’ মন্তব্য করার অভিযোগে কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রীর আনা প্রস্তাবের ভিত্তিতে স্পিকার ওম বিড়লা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদল অধিবেশনের বাকি দিনগুলির জন্য লোকসভা থেকে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেন।

এই সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানান, নারীদের প্রতি যেকোনো অসম্মানজনক মন্তব্যের বিরোধী তাঁরা। তবে এই সাক্ষাৎ নিয়ে জল্পনা উড়িয়ে তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণভাবে ওনাদের দলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। নারীদের নিয়ে যেকোনো আপত্তিকর মন্তব্যের সমর্থন কেউ করবে না। ওনার সাসপেনশন নিয়ে লোকসভার সদস্যরাই ভালো বলতে পারবেন।”

সাসপেনশনের পর কাকলি ঘোষ দস্তিদারের আনা অভিযোগ প্রসঙ্গে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দলত্যাগীদের তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বাংলার মাটিতে দুই দলের তীব্র রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকলেও, দিল্লির সংসদীয় রাজনীতিতে সেন্ট্রাল হল বা সংসদ চত্বরে বিভিন্ন দলের নেতাদের মধ্যে এমন সৌজন্যমূলক করমর্দন বা আলাপচারিতা নতুন কিছু নয়। তবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশনের ঠিক পরের মুহূর্তের এই ফ্রেম রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

Exit mobile version