Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভাইপোর অহংকারে প্রবীণদের চরম অনাস্থা! সই জাল মামলার শুনানির আগেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে ওকালতির গাউন ছাড়লেন কল্যাণ!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতার রাজপাট চলে যাওয়ার পরেও বদলায়নি অহংকার! পিসির প্রতি আনুগত্য দেখালেও, ভাইপোর তথাকথিত ‘উদ্ধত’ মনোভাবের বিরুদ্ধে এবার প্রকাশ্যেই চরম বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন প্রধান বিরোধী দল তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ তথা ডাকাবুকো আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বহুচর্চিত সই জাল মামলা থেকে আজ ওকালতির গাউন গুটিয়ে সটান বেরিয়ে এলেন তিনি। আর যাওয়ার আগে যে বিস্ফোরক তোপ দাগলেন, তাতে বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এমনিতেই ছন্নছাড়া হয়ে পড়া তৃণমূলের অন্দরের ফাটল পুরোপুরি সামনে চলে এল।

কলকাতা হাইকোর্টে আজই এই হাই-প্রোফাইল মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বুধবার সন্ধ্যার পর হঠাৎ একটি ফোন আসে কল্যাণবাবুর কাছে। দলীয় সূত্রের খবর, সেই ফোনে বর্ষীয়ান এই আইনজীবীকে জানানো হয় যে, ওকালতিতে তাঁর চেয়ে বহুগুণ জুনিয়র এক আইনজীবী (অয়ন ভট্টাচার্য) নাকি এই মামলার মূল সওয়াল বা লিড করবেন! পঁচিশ বছর ধরে যে মানুষটা দলের সমস্ত আইনি বিপদে নিজের সর্বস্ব দিয়ে লড়াই করছেন, তাঁর পক্ষে এই সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়া সম্ভব ছিল না। ৪৫ বছরের পেশাদার অভিজ্ঞতায় আঘাত লাগায় এক মুহূর্ত দেরি না করে দলদাসের ভূমিকা ঝেড়ে ফেলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। শুধু নিজে একাই নন, নিজের ছেলে শীর্ষন্য বন্দ্যোপাধ্যায়সহ তাঁর পুরো জুনিয়র আইনজীবী প্যানেলকেই এক ধাক্কায় এই মামলা থেকে সরিয়ে নেন তিনি।

মামলা ছাড়ার পরেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখ থেকে যে শব্দগুলো বেরিয়েছে, তা তৃণমূলের অন্দরের ‘নবীন বনাম প্রবীণ’ লড়াইয়ের আগ্নেয়গিরিটাকে পুরোপুরি প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। অত্যন্ত ক্ষুব্ধ কল্যাণবাবু সরাসরি তোপ দেগে বলেন, “ওর (অভিষেক) জন্যই দলটা শেষ হলো, তাও উদ্ধত ভাব গেল না!” রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা নির্বাচনে ১৫ বছরের দীর্ঘ অপশাসনের অবসান ঘটার পরেও যে নেতৃত্বের শিক্ষা হয়নি, কল্যাণবাবুর এই মন্তব্যে সেটাই প্রমাণিত। শ্রীরামপুরের সাংসদ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি তাঁর ভক্তি ও আনুগত্য অটুট, কিন্তু ভাইপোর এই একনায়কতন্ত্র আর মুখ বুজে সহ্য করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগে সিআইডি-র একের পর এক সমন এবং তলব এড়াতে কলকাতা হাইকোর্টে রক্ষাকবচ খুঁজতে গিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ। কিন্তু ঠিক শুনানির দিন সকালেই তাঁর প্রধান সেনাপতি এবং আইনি রক্ষাকর্তা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় হাতছাড়া হয়ে গেলেন। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বড় অংশের প্রশ্ন, যে নেতা ক্ষমতা চলে যাওয়ার পরেও নিজের দলের শীর্ষ সাংসদ এবং ঘরের আইনজীবীদের নূন্যতম সম্মান দিয়ে ধরে রাখতে পারেন না, তিনি কোন মুখে ঘুরে দাঁড়ানোর কথা বলেন? আদালতের চৌকাঠ থেকে রাজনীতির ময়দান— আজ স্পষ্ট হয়ে গেল, মেকআপ দিয়ে আর দলের ভাঙন ঢাকা যাচ্ছে না। পিসির স্নেহধন্য ভাইপো এখন প্রবীণদের চোখেই দলের ভবিষ্যতের সবচেয়ে বড় ‘ত্রাস’। জবাব কিন্তু রাজ্যের সাধারণ মানুষ তৈরি রাখছে।

Exit mobile version