Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ইডির ভয়ে কাঁপছে জোড়াফুল? জেলযাত্রার আতঙ্কেই কি দিল্লির দরবারে সুদীপ? বিস্ফোরক ‘সত্য’ ফাঁস করলেন কল্যাণ!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতিতে প্রবাদ রয়েছে, ভেতরের মানুষই আসল কঙ্কালটা টেনে বের করে। আর সেই মানুষটি যখন খোদ দলেরই প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় হন, তখন ভেতরের আসল চেহারাটা সাধারণ মানুষের সামনে আসতে বেশি সময় লাগে না। কেন্দ্রীয় এজেন্সির জুজু যে দলটিকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে, তা আজ আরও একবার স্পষ্ট হয়ে গেল। পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক ময়দানে এখন পরিবর্তনের তীব্র হাওয়া, আর তার মাঝেই দিল্লির দরবারে উত্তর কলকাতার বিদায়ী সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্ভাব্য পদক্ষেপ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। এই ডামাডোলের মধ্যেই আজ সংবাদমাধ্যমের সামনে সুদীপবাবুর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে যে বিস্ফোরক দাবি করেছেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, তাতে কার্যত তাঁদের দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ ফাটলই জনসমক্ষে চলে এসেছে।

কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আজ প্রকাশ্যেই অভিযোগ তুলেছেন যে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সম্ভাব্য পদক্ষেপের পেছনে কোনও রাজনৈতিক আদর্শ নেই, রয়েছে স্রেফ আইনি খাঁড়া থেকে বাঁচার মরিয়া চেষ্টা। তিনি স্পষ্ট ভাষায় দাবি করেন, পর্দার আড়ালে নিশ্চয়ই কোনও বড় প্রলোভন কাজ করছে, বিশেষ করে যদি রোজভ্যালি চিটফান্ড কেলেঙ্কারি এবং এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ED) মামলা থেকে রেহাই পাওয়ার মতো কোনও রাস্তা মেলে! রাজনৈতিক মহলের মতে, কল্যাণবাবুর এই একটি মন্তব্যই এটা দেখানোর জন্য যথেষ্ট যে, সুদীপবাবুর মতো প্রবীণ নেতারাও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার নাম শুনলেই কতটা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।

সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুরনো অধ্যায় মনে করিয়ে দিয়ে শ্রীরামপুরের এই নেতা আরও এক দফা আক্রমণ শানিয়েছেন। অতীতে যখন রোজভ্যালি চিটফান্ড মামলায় জড়িয়ে সুদীপবাবু ওডিশার জেলে বন্দি ছিলেন, সেই সময়ের কথা টেনে কল্যাণবাবু বলেন, “আমি নিজে আইনজীবী হিসেবে দিনরাত এক করে ওঁর জামিনের জন্য আইনি লড়াই লড়েছিলাম।” আজ ক্ষমতার চাকা ঘুরতেই তিনি সেই পুরনো আইনি অস্বস্তির ফাইল খোলার ভয়ে সব উপকার ভুলে ভোলবদল করছেন বলে কল্যাণবাবু ইঙ্গিত দিয়েছেন। অর্থাৎ, যে নেতাদের আড়াল করার এবং বাঁচানোর চেষ্টা এতদিন চলেছে, কল্যাণের এই ক্ষোভের মধ্য দিয়ে তা আজ আক্ষরিক অর্থেই বড় প্রশ্নের মুখে।

বাংলায় দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসনের যে দাবি বারবার উঠছে, তাতে স্বভাবতই নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান বাঁচাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন অনেকেই। কল্যাণের বক্তব্য অনুযায়ী, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পুরনো ট্র্যাক রেকর্ড রয়েছে; এর আগেও তিনি একবার দল ছেড়ে কংগ্রেসে গিয়েছিলেন এবং পরে আবার ফিরে আসেন। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে এই ধরনের সিদ্ধান্তকে সাধারণ মানুষ আর সহজভাবে নেবে না বলেই রাজনৈতিক মহলের মত। ইভিএম বাক্সেই মানুষ এই রাজনৈতিক আচরণের যোগ্য জবাব দেবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরবর্তী পদক্ষেপের জল্পনা এবং তাঁরই সতীর্থ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক বয়ান প্রমাণ করছে—ভেতরের ভাঙন রুখতে এখন আর কোনও দেওয়ালই অবশিষ্ট নেই। এজেন্সির হাত থেকে বাঁচতে নেতাদের এই মরিয়া দৌড়াদৌড়িই বলে দিচ্ছে, আগামী দিনে এই শিবিরের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে।

Exit mobile version