Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

রাজ্যসভায় জোড়াফুলের ‘উইকেট পতন’ অব্যাহত! মাত্র ৬৬ দিনেই মোহভঙ্গ, কেন ইস্তফা দিলেন কোয়েল মল্লিক?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ক্ষমতার ভরকেন্দ্র বদলেছে মাত্র এক মাস আগে। বাংলার মসনদ থেকে বিদায় নিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর ঠিক এই রকম এক অগ্নিগর্ভ রাজনৈতিক আবহে সংসদের উচ্চকক্ষেও বড়সড় ধাক্কা খেল রাজ্যের বর্তমান প্রধান বিরোধী দল। গত এপ্রিল মাসে ঘটা করে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন টলিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। কিন্তু রাজনীতির আঙিনায় পা রাখার মাত্র ৬৬ দিনের মাথায় কেন এই আকস্মিক ইস্তফা? আজ রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি।

বিজেপি শিবিরের পক্ষ থেকে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হচ্ছে— যে রাজনৈতিক দল আজ রাজ্যের ক্ষমতা হারিয়ে ধুঁকছে, যাদের অন্দরে প্রতিনিয়ত কোন্দল চলছে, সেই ছাতার নিচে থাকতে কি আর স্বস্তি পাচ্ছিলেন না এই তারকা সাংসদ? দমবন্ধ করা পরিস্থিতি থেকেই কি এই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার মরিয়া চেষ্টা? জবাব কিন্তু এখন মেলেনি।

একটু পেছন ফিরে তাকালেই স্পষ্ট হয়ে যাবে সংসদের উচ্চকক্ষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের বর্তমান করুণ দশা। এই তো কিছুদিন আগে সুখেন্দুশেখর রায় সরে দাঁড়ালেন। এরপর সুস্মিতা দেব বিদায় নিলেন। তালিকায় যুক্ত হলো প্রকাশ চিক বরাইকের নামও। আর আজ কোয়েল মল্লিকের এই পদত্যাগের পর রাজ্যসভায় তৃণমূলের আসন সংখ্যা ১৩ থেকে কমে সোজা ৯-এ এসে ঠেকেছে! একেই কি তবে বলে সংসদীয় রাজনীতিতে কার্যত একঘরে হয়ে পড়া? যখন দলের শীর্ষ নেতারাই সংসদীয় চাবুক বা হুইপ মানতে নারাজ, তখন সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের মনোবল কোথায় গিয়ে ঠেকবে, সেই হিসাব কি রাখছে কালীঘাট? বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের দাবি স্পষ্ট— “ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর জোড়াফুলের সাজানো সংসার তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে। গত নির্বাচনে বাংলার মানুষ যেভাবে পদ্ম ফুটিয়েছে, তারপর থেকেই এদের অন্দরের ফাটলগুলো প্রকাশ্যে চলে আসছে। এটা তো স্রেফ ট্রেলার, আগামী দিনে এমন আরও কত পদত্যাগ দেখতে হবে, সেটাই এখন দেখার।”

এখন প্রশ্ন, গ্ল্যামার আর সেলিব্রিটি ফেস সামনে রেখে সাধারণ মানুষের ভোট পাওয়ার পর, এই যে মাত্র দুটো মাসের মাথায় ইস্তফা দিয়ে চলে যাওয়া, এটা কি পরোক্ষভাবে ভোটারদের গণতান্ত্রিক রায়ের অবমাননা নয়? যে দলের অন্দরেই প্রতিদিন প্রকাশ্য কাদা ছোড়াছুড়ি চলে, যেখানে এক সাংসদ অন্য সাংসদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হন, তারা কীভাবে আগামী দিনে বাংলার মানুষের অধিকারের কথা সংসদে তুলে ধরবেন? রাজ্যসভায় এই ধারাবাহিক আসন কমে যাওয়া এবং নেতাদের মোহভঙ্গকে আর কতদিন ‘ব্যক্তিগত কারণ’ বা ‘গুঞ্জন’ বলে এড়িয়ে যাবে বিরোধী শিবির? আজ আর কোনো চিত্রনাট্য বা স্ক্রিপ্ট চলবে না। জনতার আদালতে জবাব তো দিতেই হবে! চোখ রাখুন পরবর্তী খবরের দিকে।

Exit mobile version