Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ব্যারাকপুরে মহা-বজ্রপাত! দলবদলুদের মুখের ওপর সপাটে দরজা বন্ধ করলেন কৌস্তভ, ওলটপালট বঙ্গ রাজনীতি?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর মে মাসের বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই তপ্ত বাংলার রাজনীতির অন্দরমহল। ক্ষমতার পালাবদলের আবহে যখন চেনা ছকে দলবদলের অশুভ জল্পনা মাথা চাড়া দিচ্ছিল, ঠিক তখনই ব্যারাকপুরের মাটি থেকে এক নজিরবিহীন ও বিস্ফোরক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। তাঁর এই একটিমাত্র সিদ্ধান্ত ও চরম হুংকার শুধু ব্যারাকপুর নয়, গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণকে এক লহমায় ওলটপালট করে দিয়েছে।কৌস্তভ বাগচী অত্যন্ত মার্জিত কিন্তু অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন— তৃণমূল কংগ্রেসের কোনও নেতাকর্মী বা সুযোগসন্ধানী নেতার জন্য বিজেপির দরজা আর কোনওদিন খুলবে না।

বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী দলের অভ্যন্তরীণ সমন্বয় ও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, ব্যারাকপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রবেশদ্বার একটিই, এবং তার চাবিকাঠি রয়েছে তাঁর নিজের হাতেই। দলের অন্য কোনও প্রভাবশালী নেতার মাধ্যমে পিছনের দরজা দিয়ে তৃণমূলের কেউ যদি বিজেপিতে ঢোকার বা রফাসূত্র খোঁজার চেষ্টা করেন, তবে সেই চেষ্টা সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, স্থানীয় স্তরে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার শেষ কথা তিনিই বলবেন।

বিজেপির এই যুবনেতার এই কড়া অবস্থানের পেছনে রয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক নীতি। নির্বাচনের আগে বা পরে যে সমস্ত তৃণমূল নেতাকর্মী বিজেপির সাধারণ কার্যকর্তাদের ওপর রাজনৈতিক হিংসা ও অত্যাচার চালিয়েছেন, ক্ষমতার লোভে বা নিজেদের বাঁচাতে এখন তাঁদের বিজেপিতে আশ্রয় দেওয়া হবে না। এই ‘নো-এন্ট্রি’ নীতি আসলে দলের নিচুতলার সেই সমস্ত কর্মীদের জন্য এক বিরাট বড় স্বস্তি, যাঁরা বছরের পর বছর ধরে মাটিতে লড়াই করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের পর দলবদলুদের দলে টেনে নিলে দলের পুরনো ও বিশ্বস্ত কর্মীদের মনোবল সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। কৌস্তভ বাগচী সেই ট্র্যাডিশন ভেঙে স্পষ্ট বার্তা দিলেন যে, আদর্শহীন ও সুযোগসন্ধানীদের চেয়ে দলের পুরনো এবং লড়াকু কর্মীদের আবেগ তাঁর কাছে অনেক বেশি মূল্যবান। এর ফলে দলের অন্দরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা এবং কর্মীদের আনুগত্য এক ধাক্কায় বহুগুণ বেড়ে গিয়েছে।

শুধু দলবদল আটকানোই নয়, ব্যারাকপুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বিরোধী নেতাদের উদ্দেশ্যে তিনি কড়া ভাষায় আইনি ও রাজনৈতিক হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বিজেপি কর্মীদের গায়ে হাত দিলে বা তাঁদের কোনও রকম হুমকি দেওয়া হলে, আইনি ব্যবস্থার পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবে তার চরম ও যোগ্য জবাব দেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

Exit mobile version