প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনৈতিক ডামাডোলের আবহে বড়সড় ধাক্কা ঘাসফুল শিবিরে। সমস্ত দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তৃণমূলের হেভিওয়েট নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। আর তাঁর এই নাটকীয় ইস্তফার পরই সুর চড়ালেন তৃণমূল বিধায়ক ও মুখপত্র কুণাল ঘোষ। চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের এই পদক্ষেপকে ‘চরম অকৃতজ্ঞতার রাজনীতি’ বলে দেগে দিয়েছেন তিনি।
প্রবীণ এই নেত্রীর রাজনৈতিক নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে কুণাল ঘোষ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দেওয়া একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং বড় দফতরের মন্ত্রী হিসেবে এতদিন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তখন তো তাঁর কোনও ক্ষোভ বা অভিমান দেখা যায়নি!” দলের এই কঠিন সময়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে তীব্র আক্রমণ করে তিনি জানান, সুসময়ে ক্ষমতা উপভোগ করে অসময়ে পিঠ টান দেওয়ার এই রাজনীতি বাংলার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ কখনই মেনে নেবেন না।
গতকাল তৃণমূল ভবনে দলের রাজ্য সভানেত্রীর ভূমিকা নিয়েও সরব হয়েছেন কুণাল। তাঁর অভিযোগ, সেখানে উপস্থিত দলীয় কর্মীরা চন্দ্রিমার সঙ্গে কথা বলতে চাইলেও, তিনি কর্মীদের আবেগ উড়িয়ে তড়িঘড়ি গাড়ি চেপে এলাকা ছাড়েন। একজন দায়িত্বশীল শীর্ষ নেত্রীর কাছ থেকে এই ধরনের আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলে মনে করেন কুণাল।
ইস্তফা দেওয়ার পরই বিধানসভায় চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বিরোধী বা বিদ্রোহী শিবিরের (ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠী) সঙ্গে যোগাযোগ করায় রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়েছে। এই প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ সাফ জানান, “যাঁদের গণভিত্তি নেই এবং যাঁরা মানুষের থেকে বিচ্ছিন্ন, তেমন কোনও বিশ্বাসঘাতক শিবিরে কেউ যদি নাম লেখাতে চান, তবে তা তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। এতে দলের কিছু যায় আসে না।”
দলের ভাঙন নিয়ে কর্মীদের আশ্বস্ত করে কুণাল স্পষ্ট করে দেন যে, দু-একজন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দল ছাড়লে তৃণমূলের কোনও ক্ষতি হবে না। ঘাসফুল শিবিরে নিষ্ঠাবান, যোগ্য এবং লড়াই করার মতো মানুষের কোনও আকাল নেই বলে তিনি দাবি করেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঘটনা এবং তার পাল্টা কুণাল ঘোষের এই তীব্র আক্রমণ প্রমাণ করছে যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও শিবিরের লড়াই কতটা জটিল রূপ ধারণ করেছে।
