প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর রাজ্যে ক্ষমতা হারিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। আর ঠিক এই রাজনৈতিক পটভূমিতে বেলেঘাটার সদ্য নির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের একটি ফেসবুক পোস্ট ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা শুরু হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ‘আমি মমতাদির সঙ্গেই আছি!’ তবে এর পরেই তাঁর সংযোজন, ‘বারবার একই ভুলের সঙ্গে নেই, বিশ্বাসঘাতকতাতেও নেই!’ রাজনৈতিক মহলের একটি বড় অংশের মতে, এই পোস্টটি স্রেফ কোনো তাৎক্ষণিক মন্তব্য নয়, এর পেছনে রয়েছে দলের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার সমীকরণ এবং এক সুগভীর কৌশল।
ঠিক গতকালই দলের পক্ষ থেকে একাধিক বড় সাংগঠনিক রদবদল ঘটানো হয়েছে। বহু নেতার কাঁধে নতুন দায়িত্ব তুলে দেওয়া হয়েছে। আর তার চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই কুণাল ঘোষের এই মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ওয়াকিবহাল মহলের প্রশ্ন, ‘বারবার একই ভুল করা হচ্ছে’—এই লাইনটির মাধ্যমে তিনি কি পরোক্ষভাবে গতকালের দলীয় সিদ্ধান্ত বা নতুন কমিটি গঠনের খসড়াকেই কাঠগড়ায় তুললেন? পোস্টে কুণাল ঘোষ উল্লেখ করেছেন, ‘ভোটের একমাসের মধ্যে যারা রহস্যজনক ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রতিপক্ষের পৃষ্ঠপোষকতায় মমতাদির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে, আমি তাদের সমর্থন করি না।’ রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে যখন অনেকে আড়ালে নতুন লবি বা দল গোছাতে ব্যস্ত, তখন কুণাল নিজেকে নেত্রীর একমাত্র বিশ্বস্ত সৈনিক হিসেবে তুলে ধরতে চাইছেন। ক্ষমতা হারানোর পর নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ধরে রাখার জন্য এটি তাঁর একটি সুচতুর কৌশল হতে পারে।কুণাল ঘোষ হুঙ্কার ছেড়েছেন—‘ঘরে বাইরে কান, চোখ, মস্তিষ্ক, হৃদয় ও মুখের পূর্ণ ব্যবহার চলবে!’
সেই সঙ্গে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ‘ত্রুটি সংশোধনের বদলে ভুল চলতে থাকলে, চোখ বন্ধ করে থাকব না।’ এই মন্তব্যকে অনেকেই দলের বর্তমান নীতি নির্ধারকদের প্রতি একটি প্রকাশ্য সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন। প্রশ্ন উঠছে, এই চোখ-কান খোলা রেখে তিনি আসলে আগামী দিনে কোন বড় পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিতে চাইলেন? তিনি জানিয়েছেন, রাজ্যের বিভিন্ন জেলা থেকে ছাত্র-যুবরা নাকি তাঁর কাছে এসে বসার অনুরোধ করছেন এবং তিনি তাদের সঙ্গে বসবেন। দলের নিজস্ব ছাত্র ও যুব সংগঠন থাকা সত্ত্বেও, গতকালের রদবদলের পর কুণাল ঘোষের এই ঘোষণা অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ। নিচুতলার কর্মীদের ক্ষোভ বা আবেগকে হাতিয়ার করে তিনি কি দলের অন্দরে নিজের একটি সমান্তরাল লবি বা প্রভাব বলয় তৈরি করতে চাইছেন?
রাজনীতির ময়দান বলছে, কুণাল ঘোষের এই পোস্ট কোনো আকস্মিক আবেগ নয়। ক্ষমতা হারানোর পর তৃণমূলের ভেতরে তৈরি হওয়া অভ্যন্তরীণ চাপ ও অসন্তোষেরই এটি একটি সুপরিকল্পিত বহিঃপ্রকাশ। ‘মমতার সঙ্গে আছি’—এই বাক্যটিকে রাজনৈতিক রক্ষাকবচ হিসেবে ব্যবহার করে তিনি আগামী দিনে দলের ভেতরের সমীকরণ কোন দিকে নিয়ে যান, সেটাই এখন দেখার।
