প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতিতে ‘স্বাক্ষর বিতর্ক’ বা সই কাণ্ড ঘিরে প্রাক্তন শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ও বাইরে চাপানউতোর ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। বিধানসভার রেজোলিউশনে সই জাল করার অভিযোগ তুলে সরব হওয়া এবং পরবর্তীতে তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হওয়া দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে এবার নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, দল যখন ক্ষমতায় ছিল তখন সমস্ত সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে, এখন ক্ষমতার সমীকরণ বদলাতেই দলের সাথে ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ করছেন এই বিধায়করা। যদিও রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তৃণমূলের এই ক্ষোভ আসলে ক্ষমতা হারানোর পর দলের অন্দরে তৈরি হওয়া তীব্র ফাটল এবং অসহায়তাকেই প্রকাশ্যে এনে ফেলেছে।
কুণাল ঘোষ দুই বিধায়কের নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি মন্তব্য করেন যে, সংশ্লিষ্ট বিধায়করা মূলত তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম, দলীয় প্রতীক এবং তাঁর ছবি ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের ভোটে জিতে বিধানসভায় পৌঁছেছেন। তাঁর অভিযোগ, আজ যখন দল রাজ্যের ক্ষমতায় নেই এবং একটি বিশেষ রাজনৈতিক বা আইনি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন ক্ষমতার কাছাকাছি থাকতে তাঁরা সুর বদলাচ্ছেন। একে সরাসরি ‘চরম সুবিধাবাদ’ এবং ‘গদ্দারি’ বলে তোপ দেগেছেন তিনি।তৃণমূলের মুখপাত্রের এই আক্রমণাত্মক বয়ানের পর রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর এবং নতুন সরকারের আমলে প্রাক্তন শাসকদলের অন্দরে ভাঙন ও ক্ষোভ স্পষ্ট হচ্ছে। কুণাল ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, দল যখন ক্ষমতায় থাকে তখন সবাই সুফল ভোগ করতে উদগ্রীব থাকে, কিন্তু পরিস্থিতি প্রতিকূল হতেই দলবদল করার প্রবণতা দেখা যায়। তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি প্রকারান্তরে স্বীকার করে নিয়েছেন যে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তৃণমূল শিবির চরম চাপের মুখে রয়েছে।
অন্যদিকে, বহিষ্কৃত বিধায়কদের অনুগামীদের একাংশের পাল্টা দাবি, বিধানসভার মতো পবিত্র জায়গায় সই জালিয়াতির মতো গুরুতর অভিযোগ ওঠার পর তা নিয়ে সত্য প্রকাশ করা কোনোভাবেই ‘দলদ্রোহিতা’ হতে পারে না। বরং তা সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। কুণাল ঘোষের এই কড়া আক্রমণকে তাঁরা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং সত্য ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা বলেই মনে করছেন। যেহেতু সই কাণ্ডের তদন্ত সিআইডি-র হাতে রয়েছে এবং পুরো বিষয়টি এখন আইনি প্রক্রিয়ার অধীন, তাই আগামী দিনে কার দাবি কতটা সত্য প্রমাণিত হবে, তা সময়ের ওপরই নির্ভর করছে।
