Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“মমতার নাম বাদ দিলে পঞ্চায়েত জেতারও মুরোদ নেই!” ঋতব্রতকে নজিরবিহীন আক্রমণ কুণালের, তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে সরগরম রাজ্য রাজনীতি!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বিধানসভায় সই কাণ্ড ঘিরে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরের কোন্দল এবার প্রকাশ্য কাদা ছোঁড়াছুঁড়িতে রূপ নিল। দলের ‘বিদ্রোহী’ তথা বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ শানালেন তৃণমূলের বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ। তাঁর স্পষ্ট দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যারিশমা এবং তাঁর নাম বাদ দিলে ঋতব্রতের নিজের দমে একটা গ্রাম পঞ্চায়েত আসন জেতারও ক্ষমতা নেই। তবে রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই আক্রমণের আড়ালে আসলে প্রধান বিরোধী শিবিরের অন্দরের তীব্র ভয়, হতাশা এবং রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার ছবিই ফুটে উঠছে।

গত মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনের পর স্পিকারের কাছে জমা পড়া একটি চিঠিতে তৃণমূল বিধায়কদের সই জাল করার অভিযোগ ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত। এই ইস্যুতে সরব হওয়া এবং স্পিকারের দ্বারস্থ হওয়ার জেরে দলবিরোধী কাজের অভিযোগে তৃণমূল থেকে বহিষ্কার করা হয় উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এরপরই তাঁর অতীত রেকর্ড টেনে কড়া আক্রমণ করেন কুণাল ঘোষ। কুণালবাবু সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “সিপিএম পর্ব মেটার পর ঋতব্রতকে তৃণমূল বুক দিয়ে আগলে রেখেছিল, রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিল। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দয়ার হাওয়া ছাড়া ও নিজের যোগ্যতায় একটা পঞ্চায়েত নির্বাচনও জিততে পারবে না।” কুণাল ঘোষ যখন ঋতব্রতের রাজনৈতিক যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, তখন ওয়াকিবহাল মহল অন্য একটি গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। বিধানসভায় জনপ্রতিনিধিদের সই জাল হওয়া বা ‘প্রক্সি সই’ করার যে অভিযোগ উঠেছে, তা দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং তা একটি আইনি অপরাধের শামিল। ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, সই জালের মতো একটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও গুরুতর আইনি অভিযোগের তদন্তের অভিমুখ ঘোরানোর জন্যই কি কুণাল ঘোষের মতো নেতারা এখন ব্যক্তিআক্রমণের পথ বেছে নিচ্ছেন?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যদি সই জাল করার কোনো ঘটনাই না ঘটে থাকে, তবে দেশের নিরপেক্ষ তদন্তকারী সংস্থা বা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সত্য সামনে আসুক, তাতেই বা তৃণমূলের আপত্তি কোথায়? কুণাল ঘোষের এই তীব্র আক্রমণের পর রাজনৈতিক মহলে পাল্টা আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বোদ্ধাদের দাবি, মাত্র কয়েক দিনের বিধায়ক বলে যাঁদের উড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, তাঁদের একটি মাত্র পদক্ষেপেই যদি বিধানসভার প্রধান বিরোধী দলের অন্দরে এতখানি কম্পন সৃষ্টি হয়, তবে বুঝতে হবে ভেতরে বড় কোনো গোলমাল রয়েছে। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো ছাত্র রাজনীতি থেকে উঠে আসা এক নেতা, যিনি একসময় তৃণমূলের অত্যন্ত বিশ্বস্ত সৈনিক ছিলেন, তাঁর এই আকস্মিক ‘বিদ্রোহ’ আসলে দলটির অন্দরে জমে থাকা তীব্র ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক যোগ্যতা বিচার করার চূড়ান্ত অধিকার শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের। কুণাল ঘোষের চ্যালেঞ্জের জবাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী দিনে কী রাজনৈতিক অবস্থান নেন, এখন সেটাই দেখার। তবে এই সই কাণ্ড যে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূলের অস্বস্তি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই।

Exit mobile version