প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য রাজনীতিতে কি তবে অলক্ষ্যে বড় কোনো ওলটপালট হয়ে গেল? বিধানসভার বহুল চর্চিত ‘স্বাক্ষর বিতর্ক’ কি ভেতরে ভেতরে কোনো নতুন মহাজোটের ইঙ্গিত দিচ্ছে? সই জালিয়াতির অভিযোগে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কারের পরেই এমন এক ঘটনা ঘটেছে, যা দেখে রাজনৈতিক মহলের একটাই প্রশ্ন— আসলে কী হয়ে গেল? প্রধান বিরোধী দলের অন্যতম শীর্ষ মুখ তথা বিধায়ক কুণাল ঘোষ প্রকাশ্যেই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বসেছেন। আর এই একটি ধন্যবাদের পর থেকেই তীব্র জল্পনা, নেপথ্যে বড় কী খেলা চলছে?
আইনসভার নিয়ম ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতার প্রসঙ্গ টেনে তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ সংবাদমাধ্যমের সামনে স্পষ্ট জানান, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে নির্দিষ্ট নথিপত্র এবং বিবরণ জনসমক্ষে এনেছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। কুণাল ঘোষের কথায়, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী মহাশয় তথ্যটি প্রকাশ্যে এনে অত্যন্ত সঠিক কাজ করেছেন এবং এর জন্য তাঁকে ধন্যবাদ”। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, বর্তমান শাসক দল বিজেপির প্রধান চালিকাশক্তি তথা মুখ্যমন্ত্রীর কোনো তদন্তমূলক পদক্ষেপকে বিরোধী শিবিরের এমন প্রকাশ্য সাধুবাদ পশ্চিমবঙ্গের সংসদীয় রাজনীতিতে কার্যত বিরল। আর এই সৌজন্যই এখন নতুন জল্পনার জন্ম দিচ্ছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের একাংশের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই ঘটনায় দুটি দিক অত্যন্ত স্পষ্ট। প্রথমত, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে পুলিশ ও রাজ্য অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) বিধানসভা সচিবালয়ের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ আইনি তদন্ত চালাচ্ছে। দ্বিতীয়ত, সেই তদন্তের তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস তড়িঘড়ি তাঁদের দলীয় স্তরে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। কুণাল ঘোষের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী এই তথ্য প্রকাশ না করলে দলের অভ্যন্তরে লুকিয়ে থাকা অসংগতি বা ভিন্ন মতাদর্শের চরিত্রগুলি হয়তো ধরাই পড়ত না। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই সমীকরণ কি কেবলই তদন্তের সত্যতা স্বীকার, নাকি এর আড়ালে শাসক-বিরোধী সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে?
আইনগতভাবে, যতক্ষণ না আদালতে কোনো অপরাধ প্রমাণিত হচ্ছে, ততক্ষণ এই বিষয়টিকে কেবল ‘অভিযোগ’ এবং ‘তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়’ হিসেবেই গণ্য করা হচ্ছে। বহিষ্কৃত বিধায়ক সন্দীপন সাহার তরফে দাবি করা হয়েছে যে, উপস্থিতি খাতায় সই করাকে দলীয় রেজুলেশনে সই হিসেবে ব্যবহার করা নিয়ে কোনো বিভ্রান্তি তৈরি হয়ে থাকতে পারে। তবে কুণাল ঘোষ যেভাবে মুখ্যমন্ত্রীর ‘এক্সপোজার’ বা সত্য উদঘাটন নীতিকে দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে মান্যতা দিলেন, তা রাজনৈতিক দেওয়ালগুলোকে অনেকটাই আলগা করে দিয়েছে। আদালতের বিচারাধীন ও তদন্তসাপেক্ষ এই সই-কাণ্ডের আইনি নিষ্পত্তি কোন দিকে যায় এবং এই ধন্যবাদের রেশ ধরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন কোনো সমীকরণ তৈরি হয় কিনা, এখন সেদিকেই চোখ গোটা বাংলার।
