প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কৃষ্ণনগরের পার্টি অফিসে ডিম ও বেগুন হামলার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সম্ভাব্য গ্রেপ্তারির আশঙ্কা বা অন্য কোনো কড়া আইনি পদক্ষেপ থেকে বাঁচতে আদালতের কাছে অন্তর্বর্তী ‘রক্ষাকবচ’ (Protection from Arrest) চেয়ে আবেদন জানিয়েছেন তিনি। শুক্রবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলা দায়েরের অনুমতি চাওয়া হলে আদালত তা মঞ্জুর করেছে। আগামী মঙ্গলবার এই মামলার শুনানির সম্ভাবনা রয়েছে।
আদালত সূত্রে খবর, মহুয়া মৈত্রের আইনজীবীর মূল অভিযোগ পুলিশের পক্ষপাতমূলক ভূমিকা নিয়ে। তাঁর দাবি, গত বুধবার নদিয়ার কালীগঞ্জের পলাশিতে তৃণমূলের একটি বৈঠক চলাকালীন মহুয়া মৈত্রকে লক্ষ্য করে ডিম, বেগুন ও পাথর ছোঁড়া হয়। এই হামলার ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় সাংসদের পক্ষ থেকে এফআইআর (FIR) দায়ের করা হলেও পুলিশ কোনো কার্যকর পদক্ষেপ করেনি। উল্টে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে হওয়া একটি পাল্টা এফআইআর-এর ভিত্তিতে পুলিশ অত্যন্ত সক্রিয়তা দেখাচ্ছে এবং তাঁকে গ্রেপ্তার করার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সাংসদ।
গত বুধবার নদিয়ার কালীগঞ্জের পলাশিতে তৃণমূল বিধায়ক আলিফা আহমেদের বাড়িতে দলীয় বৈঠকে যোগ দিতে গিয়েছিলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সেখানে হঠাৎই একদল বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে কালো পতাকা দেখায় এবং “চোর, চোর” স্লোগান দিতে শুরু করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে ওই বাড়িটি লক্ষ্য করে ব্যাপক ডিম, বেগুন ও ঢিল ছোঁড়া হয়। সেই সময় ঘরের ভেতর থেকেই ফেসবুক লাইভ করে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র। তাঁর অভিযোগ ছিল, “এরা কেউ সাধারণ মানুষ নন, প্রত্যেকেই বিজেপির গুণ্ডা”। কেন্দ্রীয় বাহিনী ও স্থানীয় পুলিশ নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল বলেই দাবি করেছে।
কাকতালীয়ভাবে, মহুয়া মৈত্রের ওপর হামলার দিনই (বুধবার) কলকাতা হাইকোর্ট রাজ্য রাজনীতিতে নেতাদের লক্ষ্য করে ‘ডিম ছোঁড়ার’ এই প্রবণতাকে অত্যন্ত কড়া ভাষায় নিশানা করেছিল এবং একে একটি “সামাজিক ব্যাধি” বলে উল্লেখ করেছিল। হাইকোর্টের সেই কড়া বার্তার পরদিনই সশরীরে আদালতের দ্বারস্থ হলেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ।পুলিশি হেনস্থা থেকে বাঁচতে এখন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাস থেকে মহুয়া মৈত্র কোনো আইনি সুরক্ষা বা রক্ষাকবচ পান কি না, আগামী মঙ্গলবার সেদিকেই নজর থাকবে রাজনৈতিক মহলের।
