প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-একুশে জুলাইয়ের শহিদ দিবসের সমাবেশকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাজ্যের রাজনীতি। সোমবার গভীর রাতে মধ্য কলকাতার বিড়লা প্ল্যানেটোরিয়ামের সামনে তৃণমূল কংগ্রেসের (কালীঘাট অংশ) মূল সভামঞ্চে ভাঙচুর এবং লাউডস্পিকারের বিদ্যুতের তার কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠল বিরোধী দল বিজেপির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ২১ জুলাইয়ের প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বিজেপিকে “তারকাটা পার্টি” বলে কটাক্ষ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবারের সভায় বক্তব্য রাখার সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, সোমবার গভীর রাতে বিজেপির আশ্রিত প্রায় ৬০-৬৫ জন দুষ্কৃতী বাইকে করে এসে সভাস্থলে তাণ্ডব চালায়। তারা সমাবেশ পণ্ড করার উদ্দেশ্যে সভামঞ্চ ভাঙচুর করে এবং মাইক ও বিদ্যুতের তার কেটে দেয়। এই ‘বিদ্যুতের তার’ কাটার প্রসঙ্গ টেনেই তিনি বিজেপিকে বিঁধে বলেন, “ওরা তারকাটা পার্টি।” তিনি আরও জানান, এই খবর পেয়েই সোমবার রাতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে তিনি নিজে রাতভর মঞ্চ পাহারা দিয়েছেন।
এই ভাঙচুরের ঘটনার পর মঙ্গলবার সকালেই তৃণমূলের আইনজীবী অর্ক নাগ কলকাতা হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তীর এজলাসে জরুরি আবেদন জানান। আদালতের কাছে অভিযোগ করা হয় যে, ১৫ জুলাই হাইকোর্টের দেওয়া নিরাপত্তা সংক্রান্ত নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সভাস্থলে এই হামলা হয়েছে। আদালতের তরফে কলকাতা পুলিশকে অবিলম্বে ওই সভাস্থলে কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূলের তোলা সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। বিজেপির দাবি, এটি শহিদ স্মরণ নয়, বরং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আড়াল করার জন্য নাটক করা হচ্ছে। রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বের তরফে পাল্টা প্রশ্ন তোলা হয়েছে, কেন তৃণমূল নেতারা সোমবার রাত থেকে সেখানে ক্যাম্প করে নাটক করছিলেন।
