Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“আমাদের বলা হয়েছিল গেট লস্ট!” দিল্লির হাইভোল্টেজ বৈঠকের পর চরম অপমানের গল্প শোনালেন মমতা!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজধানী দিল্লিতে বিজেপি-বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA Bloc) জোটের মেগা বৈঠকের পর এক হাইভোল্টেজ সাংবাদিক সম্মেলন থেকে দেশের নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রে ও রাজ্যে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমণ শানালেন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় কারচুপি, ইভিএম লোপাট এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিষয়টিকে সামনে রেখে তিনি দিল্লির মঞ্চ থেকে তাঁর চরম অপমানের এক চাঞ্চল্যকর কাহিনী শুনিয়েছেন।

বর্তমান মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমরা ওঁকে আগে থেকেই ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলি। আমরা নাম নিই না। প্রথম দিন থেকেই আমরা ‘এসআইআর’ (Special Intensive Revision)-এর বিরোধিতা করছি। আমরা মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার লড়াইয়ে আদালতেও গিয়েছিলাম, কিন্তু ন্যায়বিচার মেলেনি। আমরা নির্বাচন কমিশনে ১০০ জন ভুক্তভোগীকে নিয়ে গিয়েছিলাম, কিন্তু আমাদের অনেক অপমান করা হয়েছে। আমাদের বলা হয়েছে ‘গেট লস্ট’! এই ধরনের কথা বলার অধিকার কি ওঁর আছে? কেউ যদি চেয়ারে বসে সংবিধান মেনে গণতন্ত্র রক্ষা করে, তাহলে আমাদের কিছু বলার নেই।”

সংসদ থেকে বিরোধী সাংসদদের গণ-বহিষ্কারের ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “১৪৭ জন সাংসদকে বের করে দিয়ে রক্ষাকবচের বিল জবরদস্তি পাস করিয়েছে। তাহলে সেই রক্ষাকবচ বিল কি সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পাস হয়েছে? ওই রক্ষাকবচের সুযোগ নিয়ে কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না।”

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পূর্বপরিকল্পিত চক্রান্তের অভিযোগ এনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “তামিলনাড়ুতে বিতর্কিত কাজকর্মের জন্য পরিচিত রাজ্যপালকে নির্বাচনের ঠিক আগে পশ্চিমবঙ্গে আনা হয়েছিল।” এর পরেই তিনি কলকাতার আলিপুরের একটি সরকারি ভবনে লাগা অগ্নিকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে এনে দাবি করেন, “ভোটের পর ৪ হাজার ইভিএম (EVM)-এ আগুন লাগানো হয়েছে। ১০ তলা ভবনের ৭-৮ তলায় আগুন লেগেছে এবং বিজেপি জেনেবুঝেই এই কাজ করেছে”। তিনি আরও দাবি করেন, বাংলায় ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) নামে পরিকল্পিতভাবে প্রায় ৯২ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনের ভেতরের কিছু আধিকারিককে ব্যবহার করে বিজেপিকে রাজ্য বিধানসভায় সুবিধা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ২০২৯ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না, তার আগেই কেন্দ্র ও রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাবে।

Exit mobile version