Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ক্ষমতা হারিয়েই মাথাগরম? প্রথম দিনেই নবান্ন-লালবাজার ঘেরাওয়ের চরম হুমকি মমতার!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার সচেতন মানুষের নজিরবিহীন রায়ে নবান্ন থেকে ক্ষমতাচ্যুত হতে হয়েছে তৃণমূলকে। ঐতিহাসিক এই মহাবিপার্যয়ের পর এই প্রথম রাজপথে পা রাখলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে বিরোধী আসনে বসার পর প্রথম দিনই তাঁর মেজাজ ও উসকানিমূলক ভাষা দেখে রাজনৈতিক মহলের স্পষ্ট দাবি— ক্ষমতা হারানোর তীব্র ছটফটানি আর পরাজয়ের চরম হতাশা এখনও সামলে উঠতে পারেনি তৃণমূল শিবির। মঙ্গলবার ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে আয়োজিত একটি ধরনামঞ্চ থেকে যেভাবে তিনি পুলিশ ও প্রশাসনকে প্রকাশ্য হুমকি দিলেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে ধিক্কারের ঝড় উঠেছে।

ভোটের বড় ধাক্কা সামলে নিজের ঘর গোছাতে এবং বিপর্যস্ত কর্মীদের চাঙ্গা করতে ধর্মতলায় ধরনায় বসেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়েই কার্যত মেজাজ হারিয়ে পুলিশকে হুমকি দিতে শুরু করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, এই কর্মসূচিতে নাকি কর্মীদের আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এর পরেই উপস্থিত পুলিশ কর্মীদের উদ্দেশ্যে তর্জনী উঁচিয়ে তিনি বলেন, “যাঁরা আসছেন, তাঁদের ঢুকতে দিন। না হলে লালবাজার ঘেরাও হবে। নবান্ন ঘেরাও হবে। সব থানা ঘেরাও হবে।”একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে দাঁড়িয়ে খোদ রাজ্য সচিবালয় (নবান্ন) বা কলকাতা পুলিশের সদর দফতর (লালবাজার) ঘেরাওয়ের এই চরম অরাজক হুঁশিয়ারিকে ভালো চোখে দেখছেন না আমজনতা। সমালোচকদের প্রশ্ন, প্রথম দিনই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার এই উসকানি কেন?তবে এই চরম উসকানিমূলক বার্তার পরপরই নিজের আইনি পিঠ বাঁচাতে সুর নরম করে ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি যোগ করেন, “আমি পুলিশকে দোষ দিচ্ছি না। ওদের কোনও ভুল নেই। আমিও প্রশাসনে ছিলাম। ওরা চেয়ারের কথা শোনে। চেয়ার যা বলে তা করে।” তৃণমূল নেত্রীর এই ডাবল স্ট্যান্ডার্ড মন্তব্যকে ঘিরেই ধেয়ে আসছে সবচেয়ে বড় কটাক্ষ।

বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহল ও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের প্রশ্ন, আজ ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর পুলিশকে ‘চেয়ারের দাস’ বলে সান্ত্বনা দেওয়ার এই চতুর নাটক কেন? দীর্ঘ ১৫ বছর যখন বাংলায় তৃণমূলের জমানায় পুলিশের একাংশকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার ভুরিভুরি অভিযোগ উঠত, তখন কি তারা নিরপেক্ষ ছিল? আজ ক্ষমতা হাতছাড়া হতেই কেন পুলিশের ওপর থেকে এভাবে ভরসা চলে গেল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর, তা নিয়ে নেটপাড়াতেও ব্যঙ্গের বন্যা বয়ে যাচ্ছে।

বিজেপি শিবিরের স্পষ্ট দাবি, বাংলার মানুষ ইভিএমের মাধ্যমে তৃণমূলের দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট, কাটমানি আর হিংসার রাজনীতিকে চিরতরে বিদায় জানিয়েছেন। সেই ঐতিহাসিক পরাজয়কে হজম করতে না পেরেই প্রথম দিন থেকে এই ধরণের ‘ঘেরাও’ এবং অরাজকতা তৈরি করতে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পদ্ম শিবিরের স্পষ্ট বক্তব্য, বাংলায় আর কোনো ধরণের আইন-শৃঙ্খলা ভাঙার চেষ্টা বা দাদাগিরি বরদাস্ত করা হবে না। পরাজয়ের হতাশা থেকে সাধারণ মানুষকে উসকে দেওয়ার এই অগণতান্ত্রিক রাজনীতিকে বাংলার শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করেছে।

Exit mobile version