প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতেই কি তীব্র অভ্যন্তরীণ সংকটে ভুগছে তৃণমূল কংগ্রেস? ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহার মতো বিধায়কদের দল থেকে বহিষ্কারের পর ঘাসফুল শিবিরের অন্দরে যে ফাটল তৈরি হয়েছে, তা এখন রাজনৈতিক মহলের আলোচনার কেন্দ্রে। আর এই ডামাডোলের আবহেই মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলায় এক অবস্থান কর্মসূচি থেকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিল।ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলের কর্মসূচি থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, ‘‘কারা নতুন তৃণমূল তৈরি করবে? যাঁরা প্রথম থেকে দলের সঙ্গে আছেন তাঁরা নাকি যাঁরা দলের প্রতীকী জিতেছে তাঁরা?’’ এর পাশাপাশি রাজ্যে ‘বুলডোজ়ার’ রাজনীতি এবং সবাইকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে তড়িঘড়ি বহিষ্কার করা হলেও, দলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন ধিকিধিকি জ্বলছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, বিক্ষুব্ধ নেতাদের একাংশ একটি ‘নতুন তৃণমূল’ বা সমান্তরাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, দলের অভ্যন্তরে এই সম্ভাব্য ভাঙন এবং বিধায়কদের একাংশের ‘বেসুরো’ অবস্থান আটকাতেই ধর্মতলার মঞ্চ থেকে ‘পুরনো বনাম নতুন’ আবেগ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন তৃণমূল নেত্রী।
তৃণমূল নেত্রীর এই মন্তব্যকে তীব্র কটাক্ষ করেছে বিজেপি নেতৃত্ব। গেরুয়া শিবিরের দাবি, পরাজয়ের হতাশা এবং দলের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ভয় থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন রাস্তায় নেমে ধরনা রাজনীতি করছেন। বিজেপির পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় এজেন্সি বা কোনো ‘বুলডোজ়ার রাজনীতি’ নয়, বরং তৃণমূলের নিজস্ব দুর্নীতি এবং নেতাদের অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়ের কারণেই আজ দলটির এই শোচনীয় দশা। নিজেদের ঘর সামলাতে না পেরে মুখ্যমন্ত্রী এখন কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর দায় চাপাচ্ছেন বলে অভিযোগ বিরোধী শিবিরের।
সমালোচকদের মতে, যে দল একসময় শৃঙ্খলার কথা বলত, আজ সেই দলের সুপ্রিমোকেই প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে প্রতীক বনাম আনুগত্যের প্রশ্ন তুলতে হচ্ছে। ঋতব্রত-সন্দীপন পর্বের পর আগামী দিনে বাংলায় ঘাসফুল শিবিরের অন্দরের এই গৃহযুদ্ধ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার।
