প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতিতে একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে— ‘সুসময়ে অনেকেই পাশে থাকে, অসময়ে ছায়াও সাথ ছাড়ে।’ ২০২৬-এর নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর আজ ২ জুন কলকাতার ওয়াই চ্যানেলে (Y-Channel) তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না কর্মসূচির কোলাজ যেন সেই চিরন্তন সত্যকেই ফের একবার সামনে এনে দাঁড় করাল। ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতির প্রতিবাদে খোদ নেত্রী রাস্তায় নামলেন, অথচ মঞ্চের দিকে তাকিয়ে রাজনৈতিক মহলের চোখ চড়কগাছ! কোথায় নতুন বিধায়কদের ঝাঁক? কোথায় গেল ভোট প্রচারের সেই চেনা তারকাদের মেলা? তৃণমূল শিবিরের অন্দরের খবর, নেত্রীর এই হাই-প্রোফাইল ধর্না মঞ্চে মেরেকেটে মাত্র ১০ জন বিধায়ক এবং ৫ জন সাংসদের দেখা মিলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, যে দল একদা ‘নেত্রীর ক্যারিশমাতেই’ চলত, আজ সেই নেত্রীর ডাকেই দলের সিংহভাগ জনপ্রতিনিধির গরহাজির থাকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
নির্বাচনের টিকিট পাওয়ার জন্য যে তারকা মুখেরা একসময় কালীঘাটের দোরগোড়ায় লাইন দিতেন, আজ সংকটের দিনে তাঁদের নাকি ‘শুটিংয়ের ব্যস্ততা’ গ্রাস করেছে! সায়নী ঘোষ থেকে শুরু করে জুন মালিয়া— দলের বহু চেনা মুখকেই এদিন ধর্না চত্বরে খুঁজে পাওয়া যায়নি। শুধু তারকারাই নন, দলের টিকিটে সদ্য জিতে আসা নতুন বিধায়কদের একটি বড় অংশই নানা অজুহাতে এই কর্মসূচি এড়িয়ে গেছেন। দিনকয়েক আগে ডাকা দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকেও তিন-চতুর্থাংশ বিধায়কের অনুপস্থিতি যে স্রেফ ‘কাকতালীয়’ ছিল না, তা মঙ্গলবারের ওয়াই চ্যানেলের শূন্য আসনগুলোই প্রমাণ করে দিয়েছে। নতুনদের এই উদাসীনতার দিনে নেত্রীর মান বাঁচাতে শেষ পর্যন্ত মাঠে নামতে দেখা গেল সেই পুরোনো রক্ষী বাহিনীকেই। ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় কিংবা দোলা সেনদের মতো চেনা মুখগুলিই নেত্রীর পাশে বসে মেগাফোনে স্লোগান দিলেন। তবে রানি রাসমণি রোডে পুলিশের অনুমতি না মেলায় স্থায়ী মঞ্চহীন এই ধর্নায় যে ধরনের চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হলো, তা তৃনমূলের বর্তমান সাংগঠনিক দুর্বলতাকেই নগ্ন করে দিয়েছে বলে মত ওয়াকিবহাল মহলের।
মঞ্চে নেতাদের এই অভাব ঢাকতে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা গেছে, “যারা ব্যক্তিগত স্বার্থে দল ছাড়ছেন, তারা চলে গেলে দলের ক্ষতি নেই, নতুন করে সংগঠন গড়ব।” কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রশ্ন— দলের শীর্ষ নেতৃত্ব যখন প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে এমন সাফাই দেন, তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে অন্দরের ফাটল কতটা গভীর। ভোট মিটতেই যেভাবে দলের অন্দরে ভাঙন ও দলবদলের জল্পনা তীব্র হচ্ছে, তার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেল এই ‘ফ্লপ’ ধর্না কর্মসূচিতে।
বিপর্যয়ের পর ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দিতে গিয়ে ধর্মতলার রাস্তায় যেভাবে তৃণমূল সুপ্রিমোকে একা লড়তে হলো, তা দেখে সাধারণ মানুষও আজ বলছেন— ক্ষমতার আলো যখন নিভতে শুরু করে, তখন সবথেকে আগে পথ বদল করেন বসন্তের কোকিলরাই। আগামী দিনে এই ‘একলা চলো’ নীতি তৃণমূলকে কোন খাদের কিনারায় নিয়ে যায়, সেটাই এখন দেখার।
