প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তৃণমূল শিবিরে একের পর এক হেভিওয়েট নেতার দলবদলের জল্পনার মাঝেই রাজ্য রাজনীতিতে এক বিশাল বিস্ফোরণ ঘটে গেল। তৃণমূল কংগ্রেসের তারকা রাজ্যসভা সাংসদ তথা টলিউড অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক আচমকাই নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। দিল্লিতে গিয়ে উপরাষ্ট্রপতি তথা রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের কাছে তিনি সশরীরে নিজের পদত্যাগপত্র জমা দেন। তবে এই ঘটনাকে ঘিরে যখন গোটা রাজ্যে শোরগোল, ঠিক তখনই এক ফেসবুক লাইভে এসে অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর ও বিস্ফোরক দাবি করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এই পদত্যাগ মোটেও আকস্মিক বা হুট করে নেওয়া সিদ্ধান্ত নয়, বরং এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে অন্য এক বড় রহস্য!
আজ ফেসবুক লাইভে রথযাত্রার শুভেচ্ছা জানানোর পরই সরাসরি কোয়েল মল্লিকের এই পদত্যাগ প্রসঙ্গ টেনে আনেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি করে তিনি জানান যে, কোয়েল মল্লিক আজ পদত্যাগপত্র জমা দিলেও, দল ছাড়ার বা ইস্তফা দেওয়ার সিদ্ধান্ত তিনি অনেক আগেই নিয়েছিলেন। মমতা বলেন, “উনি একজন অত্যন্ত ভালো শিল্পী। তাঁকে আমি যথেষ্ট সম্মান করি। কিন্তু সবার জানার জন্য আজ একটা কথা স্পষ্ট বলে দিতে চাই— উনি অনেক আগেই আমাকে ইমেইল মারফত নিজের এই পদত্যাগের কথা জানিয়ে দিয়েছিলেন। তবে আজ সশরীরে গিয়ে যে উনি পদত্যাগপত্রটি জমা দিয়ে এসেছেন, তার জন্য তাঁকে ধন্যবাদ।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই বক্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। কারণ, ইস্তফা দেওয়ার ঠিক আগেই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের সঙ্গে কোয়েল মল্লিকের একটি বিশেষ সাক্ষাৎকারের খবর সামনে আসে। এই বৈঠকের পরই তিনি পদত্যাগ করেন। ফেসবুক লাইভে মমতাও পরোক্ষভাবে সেই দিকেই ইঙ্গিত করে বলেন, “বিজেপির কোনও এক নেতার সঙ্গে দেখা বা মিটিং করেই উনি পদত্যাগ করতে গিয়েছেন।”
সাম্প্রতিক সময়ে ফিরহাদ হাকিম, মদন মিত্র বা মণীশ গুপ্তের মতো হেভিওয়েটদের দূরত্ব তৈরি করা এবং একের পর এক নেতার দলত্যাগের পর কোয়েল মল্লিকের এই ইস্তফা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য বড় ধাক্কা বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে মমতা আজ লাইভে এসে বুঝিয়ে দিয়েছেন, দলের অন্দরে কে কী করছেন বা কার কী পরিকল্পনা, তা তিনি আগে থেকেই জানেন এবং কোনও চাপেই তিনি মাথা নত করতে রাজি নন।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ইমেইলে আগেই সব জানানোর পর, হঠাৎ কেন দিল্লিতে গিয়ে তড়িঘড়ি পদত্যাগপত্র জমা দিলেন কোয়েল? আর কেনই বা বিজেপি নেতার সঙ্গে তাঁর এই সাক্ষাৎ? এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে এখন রাজ্য রাজনীতির অলিন্দে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
