প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-গণতান্ত্রিক রায়ে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর এই প্রথম প্রকাশ্য রাজপথে পা রাখলেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার দুপুর ২ টো নাগাদ কালীঘাটের বাসভবন থেকে বের হয়ে তিনি সরাসরি পৌঁছান রেড রোডে, দলীয় একঝাঁক চেনা মুখকে সঙ্গে নিয়ে। ড. বিআর আম্বেডকরের মূর্তিতে মাল্যদান দিয়ে কর্মসূচি শুরু করলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই শ্রদ্ধাজ্ঞাপনের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে এক গভীর রাজনৈতিক উদ্দেশ্য।
আইন ও সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা প্রতিটি নাগরিকেরই কর্তব্য। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, ক্ষমতার মসনদ চলে যাওয়ার পরই কেন হঠাৎ সংবিধান প্রণেতার কথা মনে পড়ল সাবেক মুখ্যমন্ত্রীর? রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, যখনই রাজনৈতিক জমি আলগা হয়, তখনই এই ধরণের মণীষী স্মরণের আড়ালে নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা করা এক অতি পরিচিত কৌশল। আম্বেডকরের মূর্তিকে রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আসলে নিজেদের রাজনৈতিক অস্তিত্ব প্রমাণের মরিয়া চেষ্টা চলছে বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।
রেড রোডের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করেই তিনি সোজা ছোটেন ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে তৃণমূলের ধর্নামঞ্চের দিকে। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজ্যবাসীর কাছে প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর, গঠনমূলক বিরোধী দলের ভূমিকা পালন না করে আবারও সেই পুরনো ‘ধর্নার রাজনীতি’র আশ্রয় নেওয়াকে ভালো চোখে দেখছেন না সাধারণ মানুষ। পর্যবেক্ষকদের একাংশের কটাক্ষ, মানুষের রায়কে মেনে নিয়ে আত্মসমীক্ষা করার চেয়ে, রাজপথে হইচই করে সহানুভূতি কুড়ানোর এই চেনা ছক এখন আর সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।
এ দিনের কর্মসূচিতে তাঁর পাশে দেখা গেছে মদন মিত্র, কুণাল ঘোষ, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, দোলা সেন এবং অসীমা পাত্রদের মতো নেতাদের। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, এই দীর্ঘদিনের চেনা মুখগুলোকে পাশে নিয়ে আসলে কর্মী-সমর্থকদের এই বার্তাই দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে যে দল এখনও এককাট্টা। কিন্তু বাস্তব বলছে, ভোটের মাঠে যে নেতৃত্বকে মানুষ প্রত্যাখ্যান করেছে, তাঁদের নিয়ে এই ধরণের দেখনদারি কর্মসূচি আসলে কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা সময়ই বলবে।
