Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

হাইকোর্টে কালো কোট গায়ে হঠাৎ মমতার এন্ট্রি! বাংলায় রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরেই নজিরবিহীন টানটান উত্তেজনা আদালতে!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় ও নজিরবিহীন দৃশ্য প্রত্যক্ষ করল গোটা দেশ। আজ, ১৪ মে, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) সকালে হঠাৎই আইনজীবীর কালো গাউন এবং ব্যান্ড পরে কলকাতা হাইকোর্টে প্রবেশ করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ক্ষমতার পালাবদলের আবহে তাঁর এই আকস্মিক আদালত গমনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে তীব্র শোরগোল ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগ তুলে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের প্রবীণ আইনজীবী তথা নেতা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুত্র শীর্ষাণ্য বন্দ্যোপাধ্যায় এই মামলাটি দায়ের করেন। এই মামলাতেই তৃণমূলের পক্ষে নিজে সওয়াল করতে এবং আইনি যুক্তি সাজাতে আজ কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চের সামনে উপস্থিত হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিজেপি তথা নবগঠিত শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে এই ঘটনাকে আইনি লড়াইয়ের চেয়েও বেশি ‘রাজনৈতিক নাটক’ ও ‘জনপ্রীতি অর্জনের চেষ্টা’ বলে কটাক্ষ করা হচ্ছে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, সদ্য সমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে তৃণমূলের দীর্ঘ ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটিয়েছেন। নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় হাসিল করে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিজেপি। এই রাজনৈতিক পরাজয় এবং দলের ব্যাপক বিপর্যয়ের পর কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আইনি পোশাকের পথ বেছে নিয়েছেন বলে বিরোধী শিবিরের মত।বিজেপি শিবিরের পক্ষ থেকে আরও স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, রাজ্যে যেকোনো ধরনের হিংসাত্মক ঘটনার বিরুদ্ধে আইন কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ। পরাজয় স্বীকার করতে না পেরে পরাজয়ের গ্লানি ঢাকতেই বিরোধী দল এখন আদালতের দরজায় কড়া নাড়ছে বলে শাসক শিবিরের দাবি।

উল্লেখ্য, রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতার যোগেশচন্দ্র চৌধুরী আইন কলেজ থেকে আইনের ডিগ্রি লাভ করেছিলেন এবং অতীতে আলিপুর আদালতে প্র্যাকটিসও করতেন। চলতি বছরের শুরুতেই (ফেব্রুয়ারি ২০২৬) ভোটার তালিকা সংক্রান্ত (SIR) অপর একটি মামলায় তিনি দেশের ইতিহাসে প্রথম কর্মরত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে সশরীরে উপস্থিত হয়ে সওয়াল করেছিলেন। তবে এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন, কারণ রাজ্যে এখন ক্ষমতার সমীকরণ পুরোপুরি বদলে গিয়েছে।

আপাতত কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির এজলাসে এই হাইপ্রোফাইল মামলার শুনানিকে কেন্দ্র করে গোটা রাজ্যের নজর এখন আদালতের ভেতরের আইনি তরজার দিকে।

Exit mobile version