প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-লোকসভার পর এবার কি তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভা শিবিরেও ধস নামতে চলেছে? দিল্লির সংসদ ভবন চত্বরে ঘাসফুল শিবিরের বর্তমান রাজ্যসভা সাংসদ তথা পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন ডিজি (DG) রাজীব কুমার এবং বিদ্রোহী সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের দীর্ঘ কথোপকথন ঘিরে এই মুহূর্তে জাতীয় রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন—নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অত্যন্ত বিশ্বস্ত বলে পরিচিত রাজীব কুমারও কি এবার অন্য কোনো রাজনৈতিক পথে হাঁটার কথা ভাবছেন? গতকাল সংসদ ভবনে এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে দেখা যায় বাংলার একাধিক সাংসদকে। সূত্রের খবর, সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব কুমার এবং লোকসভার তৃণমূল সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল। তবে সকলকে চমকে দিয়ে সেই বৈঠকের ফাঁকেই বেশ কিছুক্ষণ একান্ত আলাপচারিতা বা ফিসফিসানিতে মেতে ওঠেন কাকলি ঘোষ দস্তিজার ও রাজীব কুমার।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসেই তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার ২৪ জন সাংসদের মধ্যে ২০ জন সাংসদকে নিয়ে বড়সড় বিদ্রোহ ঘোষণা করেন বর্ষীয়ান নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদাস। তাঁরা দল না ছেড়ে লোকসভার স্পিকারের কাছে আলাদা সংসদীয় ব্লক বা গোষ্ঠী হিসেবে বসার আবেদন জানিয়েছেন এবং কেন্দ্রের বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ (NDA) সরকারকে সমর্থনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। লোকসভার এই ব্যাপক ভাঙনের পর থেকেই নজর ছিল রাজ্যসভার সাংসদদের ওপর। লোকসভার দলত্যাগী নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদারের সঙ্গে রাজীব কুমারের এই আকস্মিক ও গোপন বৈঠক তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্বকে যে চরম অস্বস্তিতে ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।
প্রাক্তন আইপিএস অফিসার রাজীব কুমারের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের ও অত্যন্ত গভীর। চিটফান্ড কেলেঙ্কারির তদন্তের সময় তৎকালীন কলকাতার পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারকে সিবিআইয়ের হাত থেকে ‘বাঁচাতে’ খোদ মেট্রো চ্যানেলে ধরনায় বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পুলিশি চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর রাজীব কুমারকে দলের সর্বোচ্চ সম্মান দিয়ে রাজ্যসভার সাংসদ করে সংসদে পাঠায় তৃণমূল।এমনকি গত একুশে জুলাইয়ের মেগা শহিদ দিবসের মঞ্চেও মমতার ঠিক পাশেই দেখা গিয়েছিল এই প্রাক্তন পুলিশ কর্তাকে। এত কিছুর পরেও দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে দলত্যাগী গোষ্ঠীর সঙ্গে রাজীব কুমারের এই নৈকট্য ভালো চোখে দেখছে না ঘাসফুল শিবিরের অনুগত অংশ। তবে কি নিজের পুরনো আইনি জটিলতা এড়াতে এবং রাজ্যের বদলে যাওয়া রাজনৈতিক পরিস্থিতির (বিজেপি ক্ষমতায় আসা) সঙ্গে খাপ খাওয়াতেই রাজীব কুমার এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন?
এদিকে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকা জয়নগরের তৃণমূল সাংসদ প্রতিমা মণ্ডলের অবস্থান নিয়েও কৌতুহল তৈরি হয়েছে। এর আগে জুন মাসে বিদ্রোহী শিবিরের পক্ষ থেকে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার কথা তিনি স্বীকার করলেও, তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই থাকার বার্তা দিয়েছিলেন। কিন্তু গতকাল কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ঘরের বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি এবং রাজীব কুমারের সঙ্গে কাকলির এই বৈঠক দিল্লির দরবারে বাংলার ঘাসফুল শিবিরের ফাটলকে আরও একবার প্রকাশ্যে এনে দিল।রাজীব কুমার কি সত্যিই লোকসভার সাংসদদের মতো এনডিএ-পন্থী ব্লকে যোগ দিচ্ছেন, নাকি এটি নেহাতই সৌজন্য সাক্ষাৎ—তা আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই পরিষ্কার হবে। তবে এই ঘটনা যে মমতার ওপর মানসিক ও রাজনৈতিক চাপ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।
