প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ভোটের বাক্সে জনগণের রায় প্রকাশের পর আজ প্রথমবার রাজনৈতিক ময়দানে সশরীরে উপস্থিত হলেন সদ্য ক্ষমতাচ্যুত তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে ক্ষমতা হারানোর পর প্রথম জনসভাতেই তাঁর রাজনৈতিক অবস্থান ও বক্তব্য নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে ওয়াকিবহাল মহলে। রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে কর্মসূচি করার অনুমতি না পেয়ে আজ যেভাবে তিনি একদিকে প্রধানমন্ত্রী এবং অন্যদিকে রাজ্যপাল ও বিরোধীদের নিশানা করলেন, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, তা আসলে পরাজয়ের ধাক্কা সামলাতে না পারারই এক ধরনের রাজনৈতিক হতাশা।
এদিনের কর্মসূচি থেকে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্দেশে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘‘দেখুন কার উপর আপনি দায়িত্ব দিয়েছেন। কী হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গে। এ সব কিছু তো আপনাকে দেখতে হবে।’’ রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, এতদিন যিনি কথায় কথায় রাজ্যের বিষয়ে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করতেন, আজ বাংলায় ক্ষমতা হারানোর পর নিজের রাজনৈতিক প্রাসঙ্গিকতা বজায় রাখতে এবং প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর ক্ষোভ ঢাকতেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি করছেন। নিজেদের ব্যর্থতা আড়াল করতেই এখন দায় চাপানোর রাজনৈতিক কৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে মনে করছেন সমালোচকেরা।
রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে সভা করার অনুমতি না মেলায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, ইচ্ছা করেই তাঁদের এই কর্মসূচি করতে দেওয়া হয়নি। এরপরই তাঁর মন্তব্য, ‘‘ওই রাস্তা দিয়ে গদ্দার যায়। ওখানে লাটসাহেব থাকেন।’’ বিশেষজ্ঞদের মতে, সাংবিধানিক প্রধান রাজ্যপালকে ‘লাটসাহেব’ এবং বিরোধী শিবিরের নেতাদের ‘গদ্দার’ বলে সম্বোধন করা আদতে কোনো মার্জিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় দেয় না। গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর এই ধরনের শব্দপ্রয়োগ তাঁর রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা এবং ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ বলে দাবি বিরোধী শিবিরের।
নিজেদের কর্মসূচির অনুমতি না মেলায় এবার আইনি লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি স্পষ্ট জানান, ‘‘আমিও দেখব ভবিষ্যতে রানি রাসমণিতে কোনও কর্মসূচি হচ্ছে কি না। যদি সেখানে কর্মসূচির অনুমতি দেওয়া হয়, তখন কোর্টে যাব। বলব, আমাদের ওখানে কর্মসূচি করতে দেওয়া হয়নি।’’ রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতার মুখে এই আদালতের দোহাই দেওয়া কার্যত এক মস্ত পরিহাস। ওয়াকিবহাল মহলের অভিযোগ, ক্ষমতায় থাকাকালীন যে তৃণমূল জমানায় বিরোধীদের একের পর এক সভার অনুমতি বাতিল করা হতো এবং বিজেপিকে বারবার আদালতের দরজায় কড়া নেড়ে সভার অনুমতি আনতে হতো, আজ ক্ষমতা হারিয়ে সেই মমতাই আদালতের নিরপেক্ষতার দ্বারস্থ হতে চাইছেন। আইনের শাসন যে এখন কোনো বিশেষ দলের নিয়ন্ত্রণে নেই এবং নিয়ম যে সবার জন্য সমান, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই আইনি হুঁশিয়ারিই তা পরোক্ষে প্রমাণ করে দিচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
