Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ইন্ডিয়া জোটের বৈঠকে ‘মৌনী’ মমতা! দিল্লির মঞ্চে পাশে খাড়গে, তাও কেন মুখে কুলুপ তৃণমূলনেত্রীর? তুঙ্গে জল্পনা!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বঙ্গে হাইভোল্টেজ বিধানসভা নির্বাচন মিটতেই জাতীয় রাজনীতির অলিন্দে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। ফলাফলের পরবর্তী আবহে এবার রাজধানীতে পা রেখেছিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু দিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে ইন্ডিয়া জোটের হাইভোল্টেজ বৈঠক শেষে যা ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে তীব্র কৌতূহল।বৈঠক শেষে জোটের চেয়ারপার্সন মল্লিকার্জুন খাড়গে যখন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জোটের রণকৌশল জানাচ্ছিলেন, তখন তাঁর ঠিক পাশেই বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু গোটা সাংবাদিক সম্মেলনে কার্যত নীরবতাই বজায় রাখলেন তৃণমূলনেত্রী। সাংবাদিকদের একের পর এক প্রশ্ন ধেয়ে এলেও, নিজে কোনো বক্তব্য না রেখে একপ্রকার এড়িয়েই যান তিনি। খোদ দিল্লির মঞ্চে তৃণমূলনেত্রীর এই ‘মৌনব্রত’ নিয়ে ইতিমধ্যেই নানামুখী চর্চা শুরু হয়েছে রাজধানীর রাজনৈতিক অলিন্দে।

ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের দাবি, যখন কনস্টিটিউশন ক্লাবে জোটের বৈঠক চলছিল, ঠিক তখনই দিল্লিরই অন্য প্রান্তে বাংলার তৃনমূল শিবিরের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে নানা গুঞ্জন ছড়াতে শুরু করে। রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের অন্দরে তৈরি হওয়া নানা আলোচনা ও জল্পনাকে সংবাদমাধ্যমের সামনে এড়িয়ে যেতেই হয়তো তৃণমূলনেত্রী এই মুহূর্তে বাড়তি সতর্কতার কৌশল নিয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করাচ্ছেন, এবারের বৈঠকে ডিএমকে (DMK) বা আম আদমি পার্টির (AAP) মতো গুরুত্বপূর্ণ শরিক দলগুলোর অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। খাড়গের পাশে বসেও মমতার এই নীরবতা কি জোটের ভেতরের কোনো সুপ্ত টানাপোড়েনের ইঙ্গিত? এই নিয়েও জল্পনা উস্কে দিয়েছে বিরোধী শিবির।

নির্বাচন-পরবর্তী পরিস্থিতিতে রাজ্যের একাধিক রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যু নিয়ে বিরোধীরা লাগাতার সুর চড়াচ্ছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, দিল্লির বুকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলে বাংলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং দলের ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখে পড়তে হতো তাঁকে। সেই কারণেই এই নীরবতার পথ বেছে নেওয়া হতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই অবস্থান নিয়ে ইতিমধ্যেই আক্রমণাত্মক সুর চড়িয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব। গেরুয়া শিবিরের দাবি, বাংলায় রাজনৈতিক জমি হারানোর আশঙ্কায় তৃণমূল নেতৃত্ব এখন চরম দিশেহারা। একদিকে দলের অভ্যন্তরীণ চাপ, অন্যদিকে সর্বভারতীয় স্তরে প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখার লড়াই— সব মিলিয়ে তৃণমূলনেত্রী এখন চরম ব্যাকফুটে। আর সেই কারণেই দিল্লির মঞ্চে পাশে খাড়গে থাকলেও মুখ খোলেননি মমতা। বিরোধীদের খোঁচা, এই নীরবতাই আসলে তৃণমূলের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

Exit mobile version