প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনীতিতে চিরস্থায়ী শত্রু বলে কিছু হয় না—আজ এই আপ্তবাক্যটিই আরও একবার অক্ষরে অক্ষরে প্রমাণিত হয়ে গেল কলকাতা পুরসংস্থায় (KMC)। যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক দ্বৈরথ নিয়ে এতদিন রাজ্য রাজনীতি তপ্ত থাকত, বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সেই চেনা সমীকরণ যেন এক লহমায় বদলে গেল। রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর আজ পুরভবনে আয়োজিত হয়েছিল “স্বচ্ছতা সে স্বাগত” অভিযানের এক উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক। আর সেই বৈঠকেই ঘটল এক চরম নাটকীয় এবং নজিরবিহীন ঘটনা! মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে বৈঠকে শুধু যে বিরোধী দল তৃণমূলের কাউন্সিলররা হাজির হলেন তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রীর একেবারে পাশে দাঁড়িয়ে দীর্ঘক্ষণ খোশগল্পে মেতে থাকতে দেখা গেল খোদ প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী তথা বিরোধী কাউন্সিলর কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়কে! হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন, খোদ ‘দিদির’ ঘরের ভাইবৌ আজ সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর দরবারে!
রাজ্যে ক্ষমতা বদলের পর এবং প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের ইস্তফার জেরে কলকাতা পুরসভায় এখন প্রশাসক বসানো হয়েছে। এই নতুন আবহে শহরের নাগরিক পরিষেবা নিয়ে আলোচনার জন্য দলমত নির্বিশেষে সব কাউন্সিলরকে ডেকেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর সেই ডাকে সাড়া দিয়ে ফিরহাদ হাকিম, দেবাশিস কুমার, জুঁই বিশ্বাস বা অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়দের মতো বিরোধী শিবিরের হেভিওয়েটরা তো এলেনই, কিন্তু সব লাইমলাইট একাই কেড়ে নিলেন কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর এই হাসিমুখের আলাপচারিতা এবং বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে তীব্র গুঞ্জন শুরু হয়েছে—এ কি শুধুই প্রশাসনিক সৌজন্য, নাকি পর্দার আড়ালে তৈরি হচ্ছে কোনো নতুন রাজনৈতিক রসায়ন?
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কাজরী বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকারের এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন, তা একপ্রকার নজিরবিহীন। ক্যামেরার সামনে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “কাউন্সিলর হিসেবে যেটুকু সময়ের মেয়াদ বাকি আছে, সেই সময়টায় কাজ যাতে ভালোভাবে হয়, তার জন্য আমাদের ডাকা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বিরোধীদের ডেকেছেন, ভালো লাগছে।” শুধু তাই নয়, কলকাতার উন্নয়নের স্বার্থে তিনি নতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সম্পূর্ণ প্রশাসনিক সহযোগিতাও চেয়েছেন।নির্বাচনের এই ভরাডুবির বাজারে যেখানে তৃণমূলের অন্দরে এক চরম অস্বস্তি কাজ করছে, সেখানে দাঁড়িয়ে কালীঘাটের অন্দরের একজন অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সদস্যের মুখে নতুন বিজেপি সরকারের এই ‘সার্টিফিকেট’ বাংলার সমকালীন রাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং তীক্ষ্ণ এক বার্তা দিচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
