প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বারুইপুরের নাবালিকা নির্যাতনের ঘটনায় উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। এই আবহে বুধবার কলকাতার বুকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিবাদ মিছিল ঘিরে হওয়া অশান্তি নিয়ে এবার পুলিশ প্রশাসন ও বিজেপিকে একযোগে তীব্র নিশানা করলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের পুলিশ এখন সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা হারিয়ে শাসকদলের হয়ে ‘ক্যাডারের’ মতো কাজ করছে। কড়া ভাষায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “থানার আইসিরা এখন বিজেপির মণ্ডল সভাপতি আর জেলার এসপিরা যেন দলটির জেলা সভাপতি হয়ে গেছেন”। একই সাথে আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়ার স্পষ্ট হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
বুধবার হাজরা মোড়ে বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে তৃণমূলের যুব ও ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে একটি কর্মসূচি হয়। তৃণমূল শিবিরের দাবি, কলকাতা হাইকোর্টের সুনির্দিষ্ট অনুমতি এবং কড়া শর্ত মেনেই এই শান্তিপূর্ণ সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল। কিন্তু মিছিল শুরু হতেই সেখানে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা চড়াও হয় এবং তৃণমূল কর্মীদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ।
এই ঘটনার পরই রাজপথে দাঁড়িয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হাইকোর্টের স্পষ্ট সবুজ সংকেত থাকা সত্ত্বেও পুলিশ প্রশাসন মিছিলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। উল্টে বিজেপি কর্মীদের তাণ্ডব চালাতে প্রচ্ছন্ন মদত দেওয়া হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “আদালতের সুনির্দিষ্ট অনুমতি থাকা সত্ত্বেও পুলিশ যেভাবে মিছিলকে বাধা পেতে দিল, তা সরাসরি আদালত অবমাননার (Contempt of Court) শামিল। আমরা এই আইনি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে খুব শীঘ্রই হাইকোর্টে আদালত অবমাননার মামলা দায়ের করতে চলেছি”।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতা হাতছাড়া হওয়ার পর থেকে বারবার প্রশাসনের একটি অংশের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এ দিনের কর্মসূচিতে আইসি এবং এসপি পদমর্যাদার উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকদের সরাসরি বিরোধী দলের ‘পদাধিকারী’ বা ক্যাডারের সাথে তুলনা করে তিনি যে নতুন করে সংঘাতের আবহ তৈরি করলেন, তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূল নেত্রীর এই গুরুতর অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিরোধী শিবিরের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি, তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাপানউতোর শুরু হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
