Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ভোট বিপর্যয়ের পর চরম অন্তর্দ্বন্দ্ব! চন্দ্রিমার ইস্তফার পর এবার তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি পদে স্বয়ং মমতা!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর এবার দলের চরম গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ও ভাঙন রুখতে নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিল তৃণমূল কংগ্রেস। সর্বভারতীয় চেয়ারপার্সনের পদের পাশাপাশি এবার পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সভাপতি পদের গুরুদায়িত্বও সরাসরি নিজের কাঁধে তুলে নিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৪ জুলাই শনিবার এক ভিডিও বার্তায় স্বয়ং দলনেত্রী এই ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে দলের সংগঠনকে নতুন করে চাঙ্গা করতে কামারহাটির বিধায়ক মদন মিত্র এবং প্রবীণ নেতা কুণাল ঘোষকে রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে নিযুক্ত করা হয়েছে।

২০২৬-এর মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে নজিরবিহীন সংকট দানা বাঁধছিল। গত ৩ জুন সুব্রত বক্সীর পরিবর্তে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে দলের রাজ্য সভাপতি করা হয়েছিল। কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার মাত্র এক মাসের মাথায় তিনি সমস্ত দলীয় পদ থেকে ইস্তফা দেন। শুধু পদত্যাগই নয়, ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট সইয়ের অধিকার এবং নির্বাচন কমিশনে মমতার অনুমোদিত প্রতিনিধি পদ থেকেও নিজেকে সরিয়ে নেন চন্দ্রিমা।

রাজনৈতিক মহলের খবর, দলের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া তীব্র অসন্তোষ এবং হারের পর একাধিক প্রথম সারির নেতার বিদ্রোহী মনোভাবের জেরেই এই চরম পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গতকালই (শুক্রবার) কলকাতার ইএম বাইপাসের ধারের মূল দলীয় কার্যালয় দখল করে তালা ঝুলিয়ে দেয় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন এক বিদ্রোহী গোষ্ঠী, যারা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ বলে দাবি করছে। এই আবহেই চন্দ্রিমার পদত্যাগ দলের ভেতরের সংকটকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

আজকের এই রদবদল ঘোষণার পর ফেসবুক লাইভে এসে দলীয় বিদ্রোহীদের তীব্র আক্রমণ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানান, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের এই সিদ্ধান্ত আকস্মিক নয়, বরং এটি অনেক দিন ধরেই পরিকল্পিত ছিল; কারণ চন্দ্রিমার ছেলে আগেই বিদ্রোহীদের শিবিরে যোগ দিয়েছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া সুরে বলেন, “কে কোথায় গেল তাতে আমার কিছু যায় আসে না, আমি কারও কাছে মাথা নত করব না।” পাশাপাশি ভোটের আগে কেন এই ক্ষোভ বা বিদ্রোহ দেখা যায়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ খান এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো নেতাদের বিদ্রোহী অবস্থান ও বিধায়কদের একাংশের দলত্যাগের পর তৃণমূলের অস্তিত্ব রক্ষায় স্বয়ং মমতার সভাপতি হওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। এই মাস্টারস্ট্রোকের মাধ্যমে নিচু স্তরের সাধারণ কর্মীদের একতাবদ্ধ রাখার পাশাপাশি আদি ও নবীন শিবিরের সংঘাত মেটানোর শেষ চেষ্টা করল কালীঘাট। কুণাল ঘোষ এবং মদন মিত্রের মতো লড়াকু মুখদের সংগঠনের সামনের সারিতে এনে বুথ স্তর থেকে দলকে পুনরায় চাঙ্গা করাই এখন তৃণমূল সুপ্রিমোর প্রধান চ্যালেঞ্জ।

Exit mobile version