প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রথ দেখে নয়, এবার বোধহয় ‘পচা ডিমের’ ভয়েই থমকে গেল বৈঠক! একদিকে সদ্য ক্ষমতাচ্যুতির ধাক্কা আর দুর্নীতির পাহাড়প্রমাণ অভিযোগ, অন্যদিকে কলকাতা পৌরসভার মেয়র পদ থেকে ফিরহাদ (ববি) হাকিমের আচমকা ইস্তফা—সব মিলিয়ে চরম রাজনৈতিক অস্বস্তিতে দলটির অন্দরমহল। ববি হাকিম সরে দাঁড়ানোর পর নতুন মেয়র ঠিক করতেই আজ বিকেলে ইএম বাইপাসের ধারের তৃণমূল ভবনে কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলরদের নিয়ে একটি হাই-প্রোফাইল বৈঠক ডেকেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু রাজনৈতিক মহলের জোর জল্পনা, তীব্র জনরোষের আশঙ্কায় শেষ মুহূর্তে সেই বৈঠক তড়িঘড়ি বাতিল করতে হলো! সূত্রের দাবি, বৈঠক বাতিলের আসল কারণ কোনো প্রশাসনিক ব্যস্ততা নয়, বরং ‘ডিম ও পাথর ছোড়ার আতঙ্ক’ এবং কাউন্সিলরদের একাংশের তীব্র ‘আমজনতা-ভীতি’।
ক্ষমতা হারানোর পর রাজ্যের দিকে দিকে তৃণমূলের একাধিক নেতার যে অভিজ্ঞতা হচ্ছে, তাতে দলের অন্দরে এখন রীতিমতো শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে দাবি বিরোধীদের।কামারহাটির বিদায়ী বিধায়ক মদন মিত্রের কনভয় লক্ষ্য করে পচা ডিম ও পাথর বৃষ্টির ঘটনা ঘটেছিল। সোনারপুরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কনভয়েও আছড়ে পড়েছিল সাধারণ মানুষের ক্ষোভ।রাজনৈতিক মহলের মতে, দলের কাউন্সিলরদের একাংশের স্পষ্ট আশঙ্কা ছিল, আজ বিকেলে বাইপাসের তৃণমূল ভবনে পা রাখলেই হয়তো তাঁদেরও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে।বিক্ষোভের মুখে পড়ার ভয়ে দলের সিংহভাগ কাউন্সিলরই আজ নেত্রীর বৈঠকে আসতে চরম অনীহা প্রকাশ করেন বলে দলীয় সূত্রে খবর। এর আগে গত ৩১ মে কালীঘাটের বৈঠকেও ৮০ জনের মধ্যে মাত্র ২০ জন এসে হাজির হয়েছিলেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, প্রকাশ্য রাস্তায় কাউন্সিলরদের চরম অস্বস্তিকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচাতে এবং দলের মুখরক্ষা করতেই শেষ মুহূর্তে বৈঠক বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ক্ষমতা চলে গেলেও ববি হাকিম পরবর্তী নতুন মেয়রের কুর্সি যাতে হাতছাড়া না হয়, তার জন্য এবার বিকল্প রণকৌশল নেওয়া হচ্ছে বলে খবর। তৃণমূল ভবন যখন অসুরক্ষিত, তখন এবার ভরসা কোনো ‘নিরাপদ ডেরা’। রাজনৈতিক মহলে জল্পনা, দলের বিশ্বস্ত কোনো নিরাপদ বা অপ্রকাশিত জায়গায় কাউন্সিলরদের একে একে ডেকে পাঠানো হচ্ছে। সেখানেই দিনের আলো লুকিয়ে, নিঃশব্দে সমস্ত কাউন্সিলরের কাছ থেকে সই করিয়ে নেওয়া হবে নতুন মেয়র নির্বাচনের জন্য। যাঁরা এতদিন বুক ফুলিয়ে তিলোত্তমা শাসন করতেন, ক্ষমতা হারিয়ে আজ তাঁদেরই নতুন মেয়র বাছতে হচ্ছে অত্যন্ত গোপনে সই সংগ্রহ করে!
বিজেপির মতো বিরোধী শিবিরের তীব্র কটাক্ষ, দুর্নীতির জেরে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে পুরো ব্যবস্থা। আর সে কারণেই আজ মমতার এই বৈঠক বাতিল এবং ‘গোপন ডেরার’ রণকৌশল নিতে হচ্ছে।যদিও বৈঠক বাতিলের এই তত্ত্ব সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব। দলের এক মুখপাত্রের দাবি, “বৈঠক বাতিলের পেছনে কোনো জনরোষ বা ডিম আতঙ্কের গল্প নেই। এটি সম্পূর্ণ দলের অভ্যন্তরীণ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত। বিরোধীরা সস্তা রাজনীতির জন্য মিথ্যা রটাচ্ছে।”
