Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

বারুইপুর কাণ্ড: নির্যাতিতার পরিজনকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফোন, কালীঘাটে পুলিশি ঘেরাটোপ নিয়ে তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা নির্যাতন ও খুনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহাওয়া। ঘটনার প্রতিবাদে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়াতে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্যাতিতার পরিবারের সাথে দূরভাষে যোগাযোগ করেছেন। একই সাথে তিনি সশরীরে বারুইপুর যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেও, পুলিশ মোতায়েন করে তাঁকে গৃহবন্দি করার চেষ্টা হচ্ছে বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছে তাঁর দল।

তৃণমূল সূত্রের খবর, বারুইপুরের সূর্যপুরের এই মর্মান্তিক ঘটনার পরেই গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তৃণমূল সুপ্রিমো। তিনি ব্যক্তিগতভাবে নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং এই কঠিন পরিস্থিতিতে তাঁদের পাশে থাকার সম্পূর্ণ আশ্বাস দেন। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে তিনি একা বারুইপুরে ওই পরিবারের সাথে দেখা করতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তবে তৃণমূলের অভিযোগ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সফরের পরিকল্পনা সামনে আসতেই রাজ্য প্রশাসন তৎপর হয়ে ওঠে। কলকাতার কালীঘাটে তাঁর বাসভবনের সামনে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়।

এই পরিস্থিতি নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে দাবি করেছেন যে, তাঁকে কার্যত নজরবন্দি করে রাখা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, তিনি একাই ওই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যেতে চেয়েছিলেন, তা সত্ত্বেও কেন তাঁর বাড়ির সামনে এত পুলিশ পাঠিয়ে রাস্তা অবরুদ্ধ করা হলো। তৃণমূলের অন্যান্য শীর্ষ নেতৃত্বও এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে একে ‘অগণতান্ত্রিক’ এবং ‘সুপার ইমার্জেন্সি’র মতো পরিস্থিতি বলে কটাক্ষ করেছেন।

অন্য দিকে, বর্তমান শাসক দল বিজেপির পক্ষ থেকে তৃণমূলের এই অভিযোগকে সম্পূর্ণ খণ্ডন করা হয়েছে। তারা এই বিষয়টিকে তৃণমূলের ‘অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার রাজনৈতিক নাটক’ বলে অভিহিত করেছেন। শাসক শিবিরের দাবি, এটি একটি রুটিনমাফিক সাধারণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দল অহেতুক বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে।

ইতিমধ্যে, বারুইপুরের সূর্যপুরে এই নৃশংস ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে, যার জেরে উত্তেজিত জনতা এক সন্দেহভাজনকে গণপিটুনি দিলে তার মৃত্যু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে বড় ধরনের পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছেন এবং নির্যাতিতার বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক কঠোর আইনি ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন। রাজ্য প্রশাসনের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে এবং আগামী মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবারকে ভবানী ভবনে আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছে। সব মিলিয়ে, বারুইপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই মুহূর্তে বিচার ও রাজনৈতিক অধিকারের লড়াইয়ে উত্তাল গোটা রাজ্য।

Exit mobile version