Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধীর বাড়িতে গেলেন মমতা: ঘর ভাঙার গুঞ্জন আর কালীঘাটে সিআইডি-র হানা, তীব্র কটাক্ষ বিরোধীদের!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় নির্বাচনী ধাক্কা এবং দলের অভ্যন্তরীণ নজিরবিহীন সংকটের আবহেই আজ দেশের রাজধানীতে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক বৈঠক সম্পন্ন হলো। আজ দিল্লিতে ১০, জনপথ বাসভবনে গিয়ে প্রবীণ কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে মিলিত হলেন তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এই বৈঠককে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই দিল্লির অলিন্দ থেকে কলকাতার রাজনৈতিক মহলে তীব্র কটাক্ষ ও সমালোচনার ঝড় তুলেছে বিরোধী শিবির। বিজেপি এবং বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের মতে, এই বৈঠক আসলে তৃণমূল নেত্রীর রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার এক মরিয়া চেষ্টা। অতীতে বিভিন্ন ইস্যুতে যিনি কংগ্রেস হাইকমান্ডের তীব্র সমালোচনা করতেন, আজ নিজের দলের চরম সংকটের দিনে তাঁর এই ১০ জনপথে ছুটে যাওয়াকে বিরোধীরা ‘রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতা’ ও ‘আত্মসমর্পণ’ বলেই ব্যাখ্যা করছেন।

রাজনৈতিক মহলে জোর গুঞ্জন, লোকসভার প্রায় ২০ জন তৃণমূল সাংসদ নাকি ইতিমধ্যেই এনডিএ (NDA) শিবিরের দিকে পা বাড়িয়ে বসে আছেন। বিজেপি নেতাদের দাবি, নিজের দলের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া এই তীব্র অসন্তোষ ও বিদ্রোহের আগুন চাপা দিতে এবং দল বাঁচাতে আজ সোনিয়া গান্ধীর শরণাপন্ন হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তাৎপর্যপূর্ণভাবে, আজকেই কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাসভবন সংলগ্ন অফিসে একটি সই জালিয়াতি মামলার তদন্তে পৌঁছে গিয়েছে সিআইডি (CID) টিম। এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে বিরোধীরা তীব্র কটাক্ষ ছুড়ে দিয়ে বলছেন— একদিকে যখন ঘরের দোরগোড়ায় আইনি তদন্তের ফাঁস শক্ত হচ্ছে, তখন কি নিজের পিঠ বাঁচাতেই তড়িঘড়ি দিল্লিতে কংগ্রেস নেতৃত্বের কাছে কৃপাভিক্ষা করতে গিয়েছেন তিনি?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, বাংলায় জমি হারানোর পর জাতীয় স্তরে নিজের প্রাসঙ্গিকতা টিকিয়ে রাখতে তৃণমূল কংগ্রেস এবার পুরোপুরি কংগ্রেসের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। এমনকি রাজনৈতিক মহলে দল একীভূত করার নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। গতকাল ‘ইন্ডি’ জোটের বৈঠকে সোনিয়া-মমতার সেই উষ্ণ কোলাকুলি এবং আজকের এই একান্ত বৈঠক আসলে সেই সমীকরণেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

বিরোধী শিবিরের স্পষ্ট বক্তব্য, বাংলায় কুশাসন আর দুর্নীতির অহংকার যখন ধুলোয় মিশেছে, তখনই দিল্লির দরবারে এই মরিয়া দৌড় শুরু হয়েছে। এখন দেখার, সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে এই বৈঠক মমতার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে কোনো অক্সিজেন দিতে পারে, নাকি তৃণমূলের সংকটকে আরও বাড়িয়ে তোলে।

Exit mobile version