Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

২১ জুলাইয়ের মুখে কালীঘাটে মহাসঙ্কট: মমতার হাত ছাড়লেন ‘শহিদ দিবসের’ বিতর্কিত নায়ক, কুর্সি উল্টে দেওয়ার হুঙ্কার!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মহলে এক নজিরবিহীন ওলটপালট ঘটে গেল। তৃণমূলের ‘শহিদ দিবস’ কর্মসূচির ঠিক কয়েক দিন আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরকে চূড়ান্ত ধাক্কা দিয়ে দল ছাড়ার স্পষ্ট ঘোষণা করলেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী মণীশ গুপ্ত। তবে শুধু দল ত্যাগই নয়, তিনি সরাসরি তৃণমূলের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে রাজনীতি থেকেই পুরোপুরি বিদায় নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।

৮৫ বছর বয়সী এই প্রবীণ নেতা ক্ষোভ উগরে দিয়ে জানিয়েছেন, তৃণমূলে এলেও গত ৫ বছর ধরে তাঁকে একপ্রকার বসিয়ে রাখা হয়েছিল। দলে তাঁর আর নতুন করে কিছু করার নেই, তাই অযথা সময় নষ্ট না করে তিনি দল ও রাজনীতি দুটোই ছাড়ছেন। দলত্যাগের সিদ্ধান্তের পরেই মণীশ গুপ্ত বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর দরাজ প্রশংসা করে বলেন, “এখন যিনি মুখ্যমন্ত্রী, শুভেন্দু অধিকারী, তিনি অত্যন্ত দক্ষ প্রশাসক। বাংলার উন্নয়ন কেউ আটকাতে পারবে না। তিনি রাজ্যকে অনেক উঁচুতে নিয়ে যাবেন”।

১৯৯৩ সালের ২১ জুলাই মহাকরণ অভিযানের সময় পুলিশের গুলিতে ১৩ জন যুব কংগ্রেস কর্মীর মৃত্যু হয়েছিল, যাঁদের স্মরণে প্রতি বছর তৃণমূল শহিদ দিবস পালন করে। কাকতালীয়ভাবে, সেই সময়ে স্বরাষ্ট্রসচিব পদে থাকা মণীশ গুপ্তই এবার ২১ জুলাইয়ের ঠিক আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ছেড়ে দিলেন।

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবির পর থেকেই ঘাসফুল শিবিরে ব্যাপক ভাঙন চলছে। কাকলি ঘোষ দস্তিদারের মতো নেতারা যেমন দল ছেড়েছেন, তেমনই আজই তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কোয়েল মল্লিক। এর আগে সুখেন্দুশেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইকের মতো হেভিওয়েটরাও তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে নিয়েছেন। সব মিলিয়ে শহিদ দিবসের ঠিক আগে মণীশ গুপ্তের এই পদত্যাগ কালীঘাট ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কোর কমিটিকে এক গভীর রাজনৈতিক অস্তিত্বের সঙ্কটে ফেলে দিল।

Exit mobile version