প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের উপনির্বাচনের ঠিক আগে জাতীয় রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে। দলীয় কোন্দল ও ভাঙনের জেরে নির্বাচন কমিশন (ECI) এক অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ জারি করে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস (AITC) নাম এবং দলের মূল নির্বাচনী প্রতীক ‘জোড়া ফুল’ ফ্রিজ বা সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করেছে। আগামী ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা উপনির্বাচনে কোনও পক্ষই এই নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। কমিশনের এই সিদ্ধান্তের পরেই রাতারাতি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে জাতীয় কংগ্রেসের দিল্লি নেতৃত্ব। নির্বাচন কমিশনের এই পদক্ষেপকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে এআইসিসি (AICC)।
জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের এই সিদ্ধান্তকে তীব্র কটাক্ষ করে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ কে সি বেণুগোপাল তাঁর অফিসিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেলে একটি বিস্ফোরক পোস্ট করেছেন। তিনি সরাসরি ক্ষোভ উগরে দিয়ে লিখেছেন:”প্রথমে বিজেপির অসাংবিধানিক হাইজ্যাক, এবার অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও প্রতীক ফ্রিজ — মোদীজিকে গভীর রাতে জন্মদিনের উপহার দিলেন জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।” বেণুগোপাল তাঁর বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করেন যে, যাঁরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন, তাঁদেরই এখন নির্বাচন কমিশনের সাহায্যে দলত্যাগ ও বিদ্রোহ করার জন্য একপ্রকার ‘লাল গালিচা’ বিছিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অতীতে মহারাষ্ট্রে শিবসেনা ও এনসিপি (NCP)-র ক্ষেত্রে যেভাবে নির্বাচনী অস্তিত্ব কেড়ে নেওয়া হয়েছিল, ঠিক একই রূপরেখা এবার বাংলার ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে তীব্র ভাঙন দেখা দেয়। একদিকে আসল তৃণমূলের দাবি নিয়ে অনড় থাকেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে বিপুল সংখ্যক বিধায়কের সমর্থন নিয়ে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা হিসেবে নিজেকে আসল তৃণমূলের দাবিদার বলেন বিদ্রোহী শিবিরের ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও অরূপ রায় গোষ্ঠী। দুই তরফই ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে নিজেদের দলের প্রতীক দাবি করে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছিল। এই আইনি লড়াইয়ের নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই উপনির্বাচন দোরগোড়ায় চলে আসায়, ভোটারদের বিভ্রান্তি এড়াতে এবং কোনও পক্ষ যাতে বাড়তি রাজনৈতিক সুবিধা না পায়, তার জন্য কমিশন আপাতত মূল প্রতীক ও নাম স্থগিত রাখার এই অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশের পর আজ, শুক্রবার সকাল ১১টার ডেডলাইনের মধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন দল এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠী—উভয় পক্ষই উপনির্বাচনের জন্য তাদের পছন্দমতো ৩টি বিকল্প নাম ও ৩টি মুক্ত প্রতীকের তালিকা কমিশনে জমা দিয়েছে। তবে কংগ্রেস এই লড়াইয়ে সরাসরি দিল্লির বুক থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্বাধিকারের পাশে দাঁড়ানোয় ইন্ডিয়া (INDIA) জোটের সমীকরণ এই উপনির্বাচনে নতুন মাত্রা পেল।
