প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশ হতেই পূর্ব মেদিনীপুরের হাইভোল্টেজ কেন্দ্র নন্দীগ্রামে ঘটে গেল এক বিশাল রাজনৈতিক বিস্ফোরণ। নন্দীগ্রামে সদ্যসমাপ্ত মেগা লড়াইয়ে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হওয়ার পরই এবার সস্ত্রীক গ্রাম পঞ্চায়েতের পদ থেকে ইস্তফা দিলেন তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী পবিত্র কর। তাঁর এই আকস্মিক পদত্যাগে হলদি নদীর তীরে নতুন করে শোরগোল শুরু হয়েছে।
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের টিকিটে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ৯ হাজার ৬৬৫ ভোটে পরাজিত হন পবিত্র কর। আর নির্বাচনের এই ফলাফল সামনে আসার ঠিক পরেই নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের বয়াল ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে সস্ত্রীক পদত্যাগ করলেন তিনি। আগেই ওই পঞ্চায়েতের প্রধান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী শিউলি কর। এবার স্বয়ং পবিত্র কর নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের বিডিও (BDO)-র কাছে নিজের সদস্যপদ খারিজের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অনুযায়ী, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে বয়াল ১ নম্বর পঞ্চায়েতের ১২ নম্বর বুথ থেকে বিজেপির টিকিটে জিতে সদস্য হয়েছিলেন পবিত্র কর এবং তাঁর স্ত্রী প্রধান পদ সামলাচ্ছিলেন। তবে ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তিনি ঘাসফুল শিবিরে যোগ দেন এবং নন্দীগ্রামে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে তৃণমূলের বাজি হন। বিধানসভা নির্বাচনে দলের পরাজয় নিশ্চিত হতেই এবার পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধির পদ থেকেও সরে দাঁড়ালেন এই হেভিওয়েট দম্পতি।
পবিত্র করের এই পদত্যাগের আবেদন প্রসঙ্গে নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের বিডিও জানিয়েছেন যে, পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং পদত্যাগের আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে নিয়মমাফিক তাঁদের শুনানির জন্য ডাকা হয়েছে। অন্যদিকে ঘনিষ্ঠ মহলে পবিত্র করের দাবি, সম্পূর্ণ শারীরিক এবং ব্যক্তিগত কারণেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, বিধানসভা ভোটের ফল বেরোনোর পর নন্দীগ্রামের স্থানীয় প্রশাসনিক সমীকরণে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা।
