Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

‘চল্লিশের নিচের ওই ছেলেটার অহংকারই ডোবাল তৃণমূলকে!’ নাম না করে অভিষেককে নজিরবিহীন আক্রমণ পার্থর, জোড়াফুলের অন্দরে মহাবিস্ফোরণ!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিপর্যয়ের পর এবার তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরেই শুরু হয়ে গেল গৃহযুদ্ধ! নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকেই দলের অন্দরে যে ক্ষোভের আগুন ধিকধিক করে জ্বলছিল, তা এবার আগ্নেয়গিরির মতো ফেটে বেরোল। আর সেই বিস্ফোরণ ঘটালেন খোদ দলের একসময়ের সেকেন্ড-ইন-কমান্ড তথা প্রাক্তন মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়। নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির জন্য সরাসরি দলের বর্তমান শীর্ষ নেতৃত্ব এবং এক যুবনেতার “অহংকার ও ঔদ্ধত্যকে” কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন তিনি। যা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় পড়ে গিয়েছে।

এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায় নাম না করে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন। অত্যন্ত ঝাঁঝালো সুরে তিনি বলেন, “চল্লিশের নীচে একটি ছেলে গাড়ির ওপর দাঁড়িয়ে বলছে আমি দেখে নেব। এটা বাংলার সংস্কৃতি নয়, মানুষ এটা ভালোভাবে মেনে নেয়নি।” রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের প্রচারে যেভাবে নবীন বনাম প্রবীণ দ্বন্দ্বকে উসকে দিয়ে পুরনো নেতাদের কোণঠাসা করা হয়েছিল, পার্থবাবুর এই মন্তব্যে সেই ক্ষোভেরই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে।

বিজেপি সহ বিরোধী দলগুলি দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের অহংকার এবং ঔদ্ধত্য নিয়ে সরব হয়েছিল। এবার হুবহু সেই সুরই শোনা গেল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের গলায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, দল এখন আর মাটির মানুষের সঙ্গে যুক্ত নেই। তাঁর কথায়, “মাটিতে পা না রাখা, রোলার চালিয়ে ঘাসকে মেরে ফেলা হয়েছে। নির্বাচনে দলের ম্যাজিক কাজ করেনি।” রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পার্থবাবু বুঝিয়ে দিয়েছেন যে তৃণমূলের তথাকথিত ‘নতুন কালচারের’ নেতারাই আসলে দলের আসল ‘ঘাস’ অর্থাৎ তৃণমূল স্তরের কর্মীদের পিষে মেরে ফেলেছে।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই বিস্ফোরক মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তুঙ্গে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তৃণমূলের এই বিপর্যয়ের মূল কারণ যে পিসির ‘অন্ধ স্নেহ’ এবং ভাইপোর ‘কর্পোরেট একনায়কতন্ত্র’, তা এবার দলের অন্দর থেকেই সিলমোহর পেয়ে গেল। বিরোধী শিবিরের দাবি, যে অহংকারের রাজনীতি নিয়ে তৃণমূল চলত, ২০২৬-এর মানুষ ইভিএমে তার যোগ্য জবাব দিয়েছে। আর দলের প্রাক্তন মহাসচিবের এই স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে দিল, তৃণমূলের পতন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।

Exit mobile version